বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে 'শাসক আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কুখ্যাত সহযোগী' বলে অভিহিত করেছে। দলটি এই নিয়োগকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে বলেছে এটি ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ।
জামায়াতের বিবৃতি
বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি যে সরকার একের পর এক বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।'
আস্থার সংকট
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'গতকাল (রোববার) ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করা হয়েছে, যা জনগণের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যে ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পরিচিত সহযোগী। এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা।'
অর্থ পাচারের অভিযোগ
তিনি বলেন, 'ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের নাগালের বাইরে রেখে আরও লুটের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অপসারিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আমরা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তার অপসারণ দাবি করছি।'
দাবি
তিনি বলেন, 'আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অযোগ্য ও দলীয় গভর্নরকে অপসারণ করতে হবে, লুট করা অর্থ উদ্ধার করতে হবে এবং একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড যোগ্য, দক্ষ, সৎ এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতির পরিণতির দায় সরকারকে বহন করতে হবে।'
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ব্যাংকটির স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।



