গবাদিপশু জবাই নির্দেশিকা: কলকাতা হাইকোর্টে মামলা মহুয়া মৈত্রের
গবাদিপশু জবাই নির্দেশিকা: কলকাতা হাইকোর্টে মামলা

ঈদুল আজহার ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর যে নতুন কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে, তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্রসহ কয়েকজন। বুধবার (২০ মে) আদালতে নিজে উপস্থিত হয়ে মামলার পক্ষে প্রশ্ন করেন মহুয়া। মামলাকারীদের অভিযোগ, এই নিয়মের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে এবং ধর্মীয় রীতিনীতিতেও হস্তক্ষেপ হবে।

নতুন নির্দেশিকার বিস্তারিত

১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন ১৩ মে জারি করা রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের আগে অবশ্যই পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে। শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী অথবা বার্ধক্যজনিত কারণে অথবা স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা অসারোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুই জবাই করা যাবে। পশু চিকিৎসকের পরীক্ষার পরই এই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

আদালতে মামলাকারীদের বক্তব্য

আদালতে মহুয়া মৈত্র ও অন্য আবেদনকারীরা জানান, এই কঠোর নিয়ম কোরবানির ধর্মীয় প্রথায় হস্তক্ষেপ করছে এবং গবাদিপশু পালন ও বেচাকেনার ওপর নির্ভরশীল গ্রামের গরিব মানুষের জীবিকায় বড় আঘাত হানবে। মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনা হলেও বুধবার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। কারণ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদনপত্রের কপি পাঠানো হয়নি। আদালত বৃহস্পতিবার সকালে এটিকে প্রথম মামলা হিসেবে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মহুয়ার বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ

এদিকে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। নদিয়ার করিমপুর থানায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে মামলা করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাস। মহুয়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, এই নিয়ন্ত্রণের ফলে সব ধর্মের গরিব মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। গরুর হাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নির্দেশিকায় কোনো সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও মহুয়া সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

মহুয়া আরও বলেন, বিজেপি শাসনে গরুর মাংস রপ্তানি বেড়েছে এবং বিদেশি মুদ্রা আয় হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যালানা গ্রুপের মতো করপোরেট সংস্থা বিজেপিকে অনুদান দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গরিব মানুষের জীবিকায় লাথি মেরে কী প্রমাণ করতে চাইছে বিজেপি?

আদালতের পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার সকালে হওয়ার কথা। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে