মশক নিধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি জরুরি: আসিফ মাহমুদ
মশক নিধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি জরুরি: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

মশক নিধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সম্ভাব্য ফ্লোরিডা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “মশক নিধনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনব ধারণা পাওয়া যেতে পারে—এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমার কাছে এটি হাস্যকর মনে হয়েছে।” তিনি বলেন, মশক নিধন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মশার ডিম ও লার্ভাকে লক্ষ্য করে কাজ করে, কিন্তু অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, “দেশে প্রচলিত ফগিং পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার জীবনচক্রের নির্দিষ্ট পর্যায়কে লক্ষ্য করে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসিফ মাহমুদ বলেন, “মশক নিধন একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। নতুন প্রযুক্তি বা কার্যকর সমাধান গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসে। ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের সমাধান পাওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “সুযোগ পেলে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়—এমন পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্ত হত্যা বন্ধে দৃঢ় অবস্থান

একই লাইভে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের সবাই চোরাচালান বা মাদকের সঙ্গে জড়িত—এমন ধারণা সঠিক নয়। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাকে গুলি করে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করেন। তাই বলে তাদের হত্যা করার বৈধতা তৈরি হয় না।” আসিফ মাহমুদ বলেন, “সীমান্তে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে আটক করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময়সহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেসব ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।”

তার মতে, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে কিছু বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের নাগরিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি তারা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনও নাগরিককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করার অধিকার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।”

পুশব্যাক ইস্যু নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে লোকজন ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। একইসঙ্গে বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরারও প্রয়োজন রয়েছে।”

ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফেরানোর দাবি

লাইভে ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “মামলার আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা প্রকাশ করা হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বিস্তৃত কোনও যোগসূত্র থাকার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই শুধু সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের নয়, ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা দেশের মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে।” ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ।