নির্বাচন কমিশন (ইসি) জামায়াত-ই-ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।
গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া
ইসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে শিগগিরই গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈনউদ্দিন খান সোমবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঈনউদ্দিন বলেন, “একটি আসনের জন্য একজনমাত্র প্রার্থী থাকায় আমরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছি। আমরা কমিশনে নথি পাঠিয়েছি। তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।”
মনোনয়ন জটিলতা
জানা গেছে, জামায়াত জোটের আরেক এনসিপি প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি, কারণ সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর তিন বছর অতিক্রম করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাত তাবাসসুম গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা জমা দেওয়ার সময়সীমা বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পরে। রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করেননি।
পরে নুসরাত আদালতে যান। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ইসি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে এবং যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করে।
মনিরা শারমিনের আইনি পদক্ষেপ
অন্যদিকে, মনিরা শারমিন তার প্রার্থীতা ফিরে পেতে আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন এবং ইসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন যে, আদালতের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাতের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হোক।
তবে সোমবার একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ মনিরা শারমিনের প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন শুনতে অনীহা প্রকাশ করে। বেঞ্চের একজন বিচারক ও রিট পিটিশনকারী একই গ্রামের হওয়ায় রিটটি শুনানির জন্য অন্য বেঞ্চে পাঠানো হয়। মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রিটটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
এর আগে বিকেলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিয়ে বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত (আজ বিকেল) আদালত থেকে কোনো তথ্য পাইনি। মনিরা শারমিনের চিঠি কোনো বিষয় নয়। আমরা আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ততক্ষণে তার বিষয়ে কোনো তথ্য না এলে আমরা নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট প্রকাশ করব।”



