পটুয়াখালীতে চাঁদার দাবিতে দোকানে হামলা, ব্যবসায়ী মারধর ও কুপিয়ে জখম
পটুয়াখালী শহরে চাঁদা না পেয়ে দোকানে হামলা এবং এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানাসংলগ্ন জেলা পুলিশের মালিকানাধীন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের দুই নেতাসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আহত ব্যবসায়ীর অবস্থা গুরুতর
আহত ব্যবসায়ী খোকন মল্লিককে (৪৪) পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা পুলিশ ক্লাব মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মুরগি বেচাকেনা করেন। জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল গাজী (৪৫), সদর উপজেলার মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম (৩৮) ও তাঁদের সহযোগীরা পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের কথা বলে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে রাজি হননি।
গতকাল মঙ্গলবার তাঁর মুঠোফোনে বৈশাখ উদ্যাপনের খরচ বাবদ পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তিনি মুরগির দোকানে ছিলেন। এ সময় বাবুল গাজী, শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এলোপাতাড়ি কিলঘুষির পাশাপাশি বাবুল গাজী চাপাতি দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত করেন।
ভুক্তভোগীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ
খোকন মল্লিক অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা চাঁদার দাবিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে সদর থানাসংলগ্ন পৌর নিউমার্কেটে তাঁর ওষুধের দোকানে হামলা চালান। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচির নামে ও ব্যক্তিগত কাজে তাঁর কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল গাজী (৪৫) বলেন, খোকন মল্লিক স্বৈরাচারের দোসর এবং তিনি বাজারে মৃত মুরগি বিক্রি করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে উল্টো তিনি তাঁদের ওপর চড়াও হন, যা থেকে সংঘর্ষ হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলছে
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গতকাল রাতে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।



