বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার তিনি সরাসরি দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আনলেন- সেটি খুঁজে পেলেন বিসিবির টয়লেট ব্যবস্থাপনায়।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন অনিয়ম
বিসিবির অধীনে কর্মরত নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে তার কাছে। বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘কাল আমি বিসিবিতে গিয়েছিলাম। বিসিবিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমাদের যে ক্লিনিং সার্ভিস আছে, তাদের আমরা জনপ্রতি কত টাকা করে দেই। শুনে অবাকই হলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই। তো তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম যে ৬৫০ টাকা করে দেই তাহলে এরা ৩০০ টাকা কেন পাচ্ছে? এ ধরনের দুর্নীতির কথা আপনারা জানেন। কিন্তু আমার কষ্ট হয় যে, যারা ৩০০ টাকা ৪০০ টাকা প্রতিদিন উপার্জন করেন, তাদের থেকেও টাকা খেতে হবে? মানে তাদের থেকেও টাকা চুরি করতে হবে? এটা একেবারে জঘন্য।’
টয়লেট সংস্কারের অভাব
২০০৭ সালে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়েছিল। তামিম বলেছেন, গত ১৯ বছরে স্টেডিয়ামের টয়লেট ব্যবস্থায় কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এ প্রসঙ্গে তার কথা, ‘আপনারা হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। এটা ঠিক না। তো আমি এ কারণে যাওয়ার সময় সেখানে গিয়েছিলাম। বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা খালা আম্মা আমাকে একটা কথা বলেছিলেন, যেটা হয়তো অনেকেই ভিডিওতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাইয়া আমরা প্রত্যেক দিন ৩০০ টাকা করে পাই। এই জিনিসটা যদি আপনি একটু দেখতেন।’
বিদেশি দর্শনার্থীর অভিযোগ
বিদেশি দর্শনার্থীর কাছ থেকেও ওয়াশরুম নিয়ে অভিযোগ শুনে বিব্রত হয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে সেদিন যখন গ্যালারিতে গিয়েছিলাম, তখন একজন ফিনল্যান্ড থেকে আসা নারী সেদিন সকালেই বিমানবন্দরে এসে সোজা মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন। তিনি আমাকে সুন্দর করে বললেন, ‘ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়।’ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মিরপুর ও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের একটি বিল জমা দিতে বলেছি এই সিরিজে। আমি বলেছি যে আপনি ৩০ নারীকে ডাকবেন, আমার সামনে তাদেরকে ৫০০ টাকা করে দেবেন। ১০০-১৫০ টাকা আপনার লাভ থাকতে পারে। কারণ, যদি কোনো কোম্পানি একটি কাজ নেয় তার অনেক কিছু কিনতে হয়, তার নিজস্ব কোম্পানি চালাতে হয়, তার একটু লাভ করবেই। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি আপনি এই নারীদের দিয়েছেন, আমার সামনে আপনি ডেকে সবার সামনে দেবেন। তারপর থেকে যদি আপনারা চান, তাহলে চুক্তি গ্রহণ করতে পারি। তা না হলে চুক্তি তো বাতিল করবোই। একইসঙ্গে ব্ল্যাকলিস্ট করে দেবো যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন আপনি বিসিবিতে কাজ না করতে পারেন।’



