রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ও নারী-শিশুর নিরাপত্তার দাবিতে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় এই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গুলশান সোসাইটির সদস্যরা।
ঘটনার বিবরণ
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৯ মে এক জঘন্য ও নেক্কারজনক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। আট বছরের শিশু রামিসার মতো একটি সুন্দর প্রাণবন্ত জীবনের অবসান ঘটলো এক মর্মান্তিক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে। এটি মানবজাতির জন্য একটি কলঙ্ক। এই বেদনায় আমরা ব্যথিত, আমাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমাদের সন্তানদের জন্য। এই অনিরাপদ বাংলাদেশ আমরা চাই না।
নিরাপত্তার দাবি
বক্তারা বলেন, আমাদের সন্তানরা নির্বিঘ্নে এই বাংলাদেশে চলাফেরা করবে। তাদের জীবনের নিরাপত্তা, তাদের ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে, এটাই আমাদের কাম্য। কিন্তু যে ঘটনা ঘটে গেছে তা এই আধুনিক যুগে কাম্য নয়। আমরা সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে এটা মেনে নিতে পারি না। তাই আমাদের হৃদয়ের বেদনার প্রকাশ ঘটাতে আজ এখানে সমবেত হয়েছি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
দ্রুত বিচারের প্রয়োজনীয়তা
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, এমন হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এর পেছনে বিচারের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেন তারা। আর এ জন্যই শিশু রামিসার ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত ও কার্যকরের দাবি জানান তারা।
গুলশান সোসাইটির অবস্থান
মানববন্ধনে তারা বলেন, একটি নাবালক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধে সরকার এবং বিচার বিভাগের কাছে আমরা গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে দ্রুত সুষ্ঠু বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করছি। আমরা দীর্ঘ বিচারের অপেক্ষায় থাকতে রাজি নই।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়।



