বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ আসিম বলেছেন, সরকার বা কোনো রাজনৈতিক শক্তির কাছে নয়, বরং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বিচার বিভাগকে। সোমবার ঢাকা ট্রিবিউন ও ঢাকায় নরওয়ের রাজকীয় দূতাবাসের আয়োজনে 'বাংলাদেশে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবিধানের প্রতিশ্রুতি পূরণে দীর্ঘ পথ
আসিম বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি আগে সংবিধানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে বাংলাদেশের এখনও 'দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে'। তিনি সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার কথা বলা হয়েছে। আসিম বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চেতনাকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর না করে সাংবিধানিকভাবে রক্ষা করতে হবে।
নরওয়ের উদাহরণ
নরওয়ের সঙ্গে তুলনা করে আসিম বলেন, পরিণত গণতন্ত্রেও বিচারকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শতাব্দী লেগেছে। তিনি বলেন, 'নরওয়ের বিচারকদের সাংবিধানিক সুরক্ষা জোরদার করতে প্রায় দুই শতাব্দী লেগেছে। আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে আমরা আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।'
প্রাতিষ্ঠানিক সাহসের প্রয়োজন
আসিম যুক্তি দেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু আইনি বিধানের বিষয় নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সাহস ও মানসিকতারও বিষয়। অষ্টম সংশোধনী মামলা এবং ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের মতো landmark রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচ্চ আদালত অতীতে স্বাধীনতার পরিচয় দিয়েছে, এমনকি কর্তৃত্ববাদী শাসনামলেও অসাংবিধানিক কাজকে বেআইনি ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, 'যখন বিচারকরা সত্যিই স্বাধীন বোধ করেন, তখন তারা ক্ষমতায় যে কেউ থাকুক না কেন, অসাংবিধানিক কাজকে বাতিল ঘোষণা করার সাহস দেখান।'
জনগণের কাছে জবাবদিহি
আসিম বলেন, 'আমরা এমন একটি বিচার বিভাগ চাই যা এই দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহি করে, সবসময় সরকার বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছে নয়।' তিনি বিচারক নিয়োগে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানান এবং নরওয়ের মতো মডেলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকেন।
বিএনপির প্রস্তাব
আসিম বলেন, বিচার বিভাগ সংস্কার নিয়ে বিএনপি তার বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা ও সুপারিশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
আসিম তার বক্তব্য শেষে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের সামনে সমতার স্বার্থে কাজ করবে। তিনি বলেন, 'সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বিচার বিভাগের পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। সংবিধান একই থাকা উচিত। যে কোনো পরিবর্তন বা সরকার ক্ষমতায় আসুক, তা বিবেচ্য নয়। আমাদের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এটাই এই সেমিনারের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।'
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের উচিত জনগণের সমালোচনা ও জবাবদিহিতার জন্য উন্মুক্ত থাকা। তিনি বলেন, 'বিচার বিভাগ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা এমন ধরনের স্বাধীনতা চাই।'



