জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিল মানুষ: মির্জা ফখরুল
জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিল মানুষ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে অভিহিত করেন।

জিয়ার অবদান ও আদর্শ

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়া স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেডফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাসে বীর নায়কের স্থান অর্জন করেন। ২৬ মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে তরুণ ছাত্র, শ্রমিক ও যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করে বিজয় অর্জন করে।

বিজয়ের পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসনে দেশ অরাজকতায় পতিত হয়। নাগরিক অধিকার হরণ, গণতন্ত্রের কবর, একদলীয় দুশাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের ঘটনা ঘটে। সেই নৈরাজ্যের সময় সিপাহী ও জনতা মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি করে। জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেন। তিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিয়ার হত্যা ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি মেনে নিতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে এই হত্যাকাণ্ড তাকে বিস্মৃত করতে পারেনি; বরং তিনি জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া তার প্রদর্শিত পথে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও বর্তমান প্রসঙ্গ

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। গুম, খুন, নির্যাতন ও জুলুমের মাধ্যমে তারা টিকে ছিল। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে লুটেরা অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এখন ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও পরমতসহিষ্ণুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় জীবনের সব সংকটে শহীদ জিয়ার পথ ও আদর্শ বুকে ধরে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

শেষে তিনি ৩০ মে শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।