জামিনে মুক্তি পেয়ে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের মৃত্যু
জামিনে মুক্তি পেয়ে সাবেক এমপি দবিরুলের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দবিরুল ইসলাম জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

মৃত্যুর বিবরণ

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতা। সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের একান্ত সহকারী কামরুজ্জামান শামীম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে দবিরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।

কারাভোগ ও জামিন

প্রায় দেড় বছর অসুস্থ অবস্থায় কারাভোগের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন দবিরুল ইসলাম। তবে বাবার মুক্তি মিললেও ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দবিরুল ইসলামের ছেলে মাজাহারুল ইসলাম সুজন এখনো দিনাজপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জীবনী

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে ‘চাবি’ প্রতীক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দলটির জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় এক অপরাজেয় রাজনৈতিক দুর্গ গড়ে তোলেন তিনি। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দবিরুলের বদলে তার ছেলে মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও অসুস্থতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্য অনেক নেতার মতো দবিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই বছরের ২ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর থেকেই তীব্র অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।