নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণে দাবি করেছেন, ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হারানো ভর্তি কাগজপত্র উদ্ধার করেছিলেন এবং তার ভর্তি হওয়ার ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন।
কী ঘটেছিল ১৯৮৬ সালে?
শাহ ওয়ালী উল্লাহ জানান, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তি কার্যক্রম চলছিল। কলাভবনের নিচে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ডিনের কক্ষের সামনে কিছু কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কাগজগুলো হাতে নিয়ে দেখতে পান, সেখানে এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ ভর্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। নামের স্থানে লেখা ছিল ‘তারেক রহমান’ এবং পিতার নাম ‘জিয়াউর রহমান’।
তিনি বলেন, প্রথমে বুঝতে পারেননি এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের কাগজপত্র। কিছুক্ষণ পর দেখেন, এক তরুণ উদ্বিগ্নভাবে তার ফাইল খুঁজছেন। পরে তিনি ফাইলটি তার হাতে তুলে দেন। তরুণটি হাসিমুখে গ্রহণ করে তাকে ধন্যবাদ জানান।
চেহারা দেখে নিশ্চিত হন
স্মৃতিচারণে ওয়ালী উল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, তরুণটির চেহারার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মিল খুঁজে পেয়েই তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন।
সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শাহ ওয়ালী উল্লাহ সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তখন ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। প্রতিনিয়ত মিছিল-মিটিং, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই থাকত। ছাত্ররাজনীতির নানা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন তিনি। ডাকসু নির্বাচন, ছাত্রনেতা হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতাসহ নানা ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল ঘটনাবহুল।
তিনি স্মরণ করেন, এক সময় জিয়া হলের সামনে খালেদা জিয়ার একটি সভা চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ছাত্রনেতার মৃত্যুর খবর আসে। পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় তারেক রহমানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করাও কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন এই স্মৃতিচারণ?
শাহ ওয়ালী উল্লাহ আরও জানান, কয়েক মাস আগে এক আলোচনায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করেছিলেন, ‘তারেক জিয়া ইন্টারমিডিয়েটও শেষ করতে পারেননি।’ তখন তিনি সবার সামনে প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানের ভর্তি হওয়ার সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান অনার্স শেষ করেছেন কিনা—আমার জানা নেই। তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন—এটি আমি নিজের চোখে দেখা ঘটনার ভিত্তিতেই বলেছি।’
প্রতিক্রিয়া
ওয়ালী উল্লাহর এই স্মৃতিচারণ ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চার দশক আগের সেই হারিয়ে যাওয়া ফাইল আজ যেন ফিরে এসেছে স্মৃতির পাতায়—যেখানে রাজনীতি নয়, একজন তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ আর আরেক তরুণের মানবিকতাই হয়ে উঠেছে মূল গল্প।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে তো আসলে যারা তখনকার সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তারা বলবেন বা স্মৃতিচারণ করবেন তাই না? আমি এখন পর্যন্ত শুনতে পারিনি যে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কিছু বলেছেন। তবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এক বক্তব্যে এই বিষয়টি সামনে এনেছেন।’



