ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি এবং তার ভাগনে সাগর আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া জালিয়াতি মামলা নিয়ে বড় ধরনের মোড় আসার খবর পাওয়া গেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে এবং দ্রুতই সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়ের করা দেওয়ানি জালিয়াতি মামলাটিও নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করায় বিচার বিভাগ মামলাটি আর না টেনে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদানি গ্রুপের জন্য তাৎপর্য
আইনি এই জটিলতা দূর হলে তা আদানি গ্রুপের জন্য এক বিশাল বিজয় হিসেবে দেখা হবে। গত কয়েক বছর ধরে কয়লা খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিমানবন্দর খাতের ব্যবসায় এই মামলাটি একটি বড় বাধা হিসেবে ছিল। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার ফলে আদানি গ্রুপ পুনরায় আন্তর্জাতিক পুঁজি বাজারে ফেরার সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের ‘আগ্রাসী সম্প্রসারণ কৌশল’ নতুন করে শুরু করার পথ সুগম হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগের পটভূমি
২০২৪ সালের নভেম্বরে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনায় গৌতম আদানি ও তার নির্বাহীরা জড়িত ছিলেন। তবে শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। মার্কিন অ্যাটর্নির দফতর বা এসইসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, এসইসির মামলাটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত আর্থিক জরিমানা প্রদানের নিয়ম রয়েছে। অভিযুক্তরা কেউ মার্কিন আদালতে হাজির না হওয়ায় মামলাটি কার্যত আগে থেকেই স্থগিত অবস্থায় ছিল।



