ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি আফজাল নাছের ষষ্ঠ দফায় রিমান্ডে, আদালতের আদেশ
ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি আফজাল নাছের ষষ্ঠ দফায় রিমান্ডে

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি আফজাল নাছের ষষ্ঠ দফায় রিমান্ডে পাঠানো হলো

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল নাছেরকে ফের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত আসামি নাছেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এ নিয়ে তাকে ষষ্ঠ দফায় রিমান্ডে পাঠানো হলো, যা এই মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালতের শুনানি ও রিমান্ডের প্রক্রিয়া

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দফায় মোট ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে আসামি আফজাল নাছেরকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই সিদ্ধান্তে আদালত তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রমাণের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও আসামির পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ ভোরে বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। তিনি ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালের জুন থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই পদে থাকাকালীন সময় এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে এই মামলার তদন্তে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

এই মামলাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে হত্যার অভিযোগে উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আদালতের রিমান্ডের আদেশ তদন্তকে গতিশীল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও আসামিপক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।