রাজশাহীতে সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজিব গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৫। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়ইকুড়ি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিচয়

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. রাজিবুল ইসলাম ওরফে রাজিব, যাঁর বয়স ৩৫ বছর। তাঁর বাড়ি দামকুড়া থানার শিতলাই (বাথানবাড়ী) গ্রামে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

স্থানীয় সূত্র ও র‍্যাবের তথ্যমতে, ২৫ জানুয়ারি রাতে নিজ বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে গরু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে আসামিদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে মোশাররফের মাথায় সরাসরি আঘাত করে। এই আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর চারজন নামীয় ও আরও সাত-আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোশাররফকে মারধর করে দ্রুত পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন মোশাররফকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জানুয়ারি সকালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

মামলা ও পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার

এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোশাররফ হোসেনের ছেলে বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। থানা-পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব-৫ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি তীব্র করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর আগে, ১ ফেব্রুয়ারি একই মামলায় শিতলাই গ্রামের মোছাব্বর হোসেনের দুই ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রাকিব এবং আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এই মামলার যথাক্রমে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত।

অভিযান অব্যাহত

র‍্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। সংস্থাটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে মামলার সকল আসামিকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।