শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: দীপু মনি, বাবু, রুপার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসিকিউশনের
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: দীপু মনি-বাবু-রুপার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে পৃথকভাবে ট্রাইব্যুনালের শুনানি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আনা হয়।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন ট্রাইব্যুনালে ওই তিন জনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

শুনানির বিবরণ

শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বাবু।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানি শেষে তিন আসামিকে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন। আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রসিকিউশনের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের অপরাধের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বলেন, শাপলা চত্ত্বরের হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পনা মাফিক ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিক মোজ্জামেল বাবু ও ফারজানা রুপা। তারা ঘটনার সঠিক তথ্য লুকাতে ভূমিকা রাখেন। এদিকে শাপলা চত্ত্বর হত্যাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট বন্ধ, দুটি টেলিভিশন বন্ধসহ যারা বিভিন্ন অপকর্মে ভূমিকা রেখেছেন তারাও আসামি হবেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

গ্রেফতারকৃত আসামি

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।