২৩ বছর পর আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারে জমি ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক
২৩ বছর পর আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারে জমি ফিরে পেলেন মালিক

২৩ বছর পর আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারে জমি ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক

দীর্ঘ ২৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ১৪ শতক জমি প্রকৃত মালিকের দখলে ফিরে এসেছে। আদালতের নির্দেশে সোমবার সকালে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমিটি শাহাব উদ্দিন গংদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা জাগিয়েছে।

জমি হস্তান্তরের বিস্তারিত প্রক্রিয়া

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পেকুয়া মৌজায় আদালতের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমির পরিমাপ সম্পন্ন করেন। এরপর লাল নিশানা গেড়ে জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আদালতের পক্ষে নাজির হামিদুল হক, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিন এবং পেকুয়া থানা পুলিশের একটি দল সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আইনি যাত্রা

আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, পেকুয়া মৌজার ১৯৩ খতিয়ানের ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় মৃত তোতা মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম ও মৃত জালাল আহমেদের ছেলে শাহাব উদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত শাহাব উদ্দিন গংদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে ঘোষণা দেন। প্রতিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে প্রশাসনকে জমিটি উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকদের দখলে দিতে বাধ্য করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মালিক ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

জমি ফিরে পেয়ে শাহাব উদ্দিন গংদা বলেন, "দীর্ঘ ২৩ বছর পর আদালতের নির্দেশে ইউপি চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ ও ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেনসহ স্থানীয়দের সহায়তায় আমি জমি বুঝে পেয়েছি। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন এবং যারা জায়গাটা বুঝে পেতে আন্তরিক সহযোগিতা করছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, "আমরা জর্জ কোর্টের নির্দেশে ১৯৩ খতিয়ানের ১৪ শতক জমি শাহাব উদ্দিন গংদের বুঝিয়ে দিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল, যা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে।"

সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নাজির হামিদুল হক বলেন, "আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে আইনের শাসন আছে বলে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।"

স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের প্রতিনিধিদলের এই কার্যক্রম আইনের শাসনের প্রতি তাদের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি জমি বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এই ঘটনা অন্যান্য অনুরূপ বিরোধের ক্ষেত্রেও একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।