পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অপহরণকারী চক্রের আট সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় অপহৃত দুই কলেজছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অপহরণ কাজে ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
বুধবার (২০ মে) সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- রনি শেখ (২৫), জাহিদ ইসলাম হাতেম (২৫), শান্ত মিয়া (২৪), রাহাত আলী (২০), সেজান হোসেন (২৫), সাজ্জাদ হোসেন (২০), সোহেল রানা (৪০) ও রিফাত হোসেন (১৯)।
উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থী
উদ্ধারকৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম প্রান্ত (১৯) এবং তার বন্ধু তানভীর হোসেন তন্ময় (১৮)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য
বিকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রেজিনূর রহমান। তিনি জানান, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে প্রান্ত ও তার বন্ধু তন্ময় মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা শহরে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপহরণকারীরা প্রান্তের মোবাইল ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে জানায় যে, দুজনকে একটি মেয়েসহ আটকে রাখা হয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সঙ্গে অপহৃতদের মারধর ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশের তৎপরতা
ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি পাবনা জেলা ডিবি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহর নির্দেশে ও ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযানে নামে। অভিযানের এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের আট সদস্যকে আটক ও অপহৃত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযানকালে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মোবাইল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত দুই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।



