জবিতে ক্লাসরুমে আপত্তিকর ভিডিও: দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
জবিতে আপত্তিকর ভিডিও: দুই শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্লাসরুমে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরিচয়

বহিষ্কৃতদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র, অপরজন সমাজকর্ম বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে সমাজকর্ম বিভাগের একটি ক্লাসরুমে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি প্রথমে একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয় এবং পরে বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল হয়।

প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

ভিডিওটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী মন্তব্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপাচার্যের বক্তব্য

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুশৃঙ্খল ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনও কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়ন করব।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইন বিভাগের ডিনের মন্তব্য

আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক খ্রিস্টিন রিচার্ডসন বলেন, “শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর নজরদারি থাকবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি করেছে।