সিরাজগঞ্জে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গুলি: প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড
সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীকে গুলি: প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করার ঘটনায় ওই কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

অস্ত্র আইনে দণ্ড

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক সরকার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচারক রায়হান শরীফকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণ

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এবং মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন; কিন্তু তিনি পেশাগত পবিত্র দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত এগুলো কর্মস্থলে বহন করতেন এবং এর ধারাবাহিকতায় নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালত আরও বলেন, রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।

ঘটনার বিবরণ

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের একাডেমি ভবনের চতুর্থতলায় ক্লাশ চলাকালে ডা. রায়হান শরীফ তুচ্ছ ঘটনায় শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন ও দুটি অত্যাধুনিক ছোরা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।