জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিশু জাবিরের বাবার জবানবন্দি
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শিশু জাবিরের বাবার জবানবন্দি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। এ খবর জেনে সেদিন রাজধানীর উত্তরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দমিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ছয় বছর বয়সী শিশু জাবির ইব্রাহীম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন জাবিরের বাবা কবির হোসেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে আজ সোমবার কবির হোসেন এই জবানবন্দি দিলেন। এই মামলার আসামি জয় পলাতক। অপর আসামি পলককে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জবানবন্দির মূল বক্তব্য

জবানবন্দিতে কবির হোসেন তাঁর ছেলে জাবিরের গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে জয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সবাইকে দায়ী করেন। দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাবির কীভাবে মারা যায়, তার বিবরণ জবানবন্দিতে দেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন জেনে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট বেলা দুইটার দিকে তিনি (কবির হোসেন) তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, এক ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা স্কুলের বিপরীত পাশে আনন্দমিছিলে অংশ নেন। সেখানে নির্মাণাধীন একটি পদচারী–সেতুতে (ফুটওভার ব্রিজ) দুই ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ছিলেন নিচে। তাঁরা ছবি তুলছিলেন, ভিডিও করছিলেন। সেদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে ১৫-২০ জনের একটি দল গুলি করতে করতে, সাউন্ডগ্রেনেট নিক্ষেপ করতে করতে তাঁদের দিকে আসতে থাকে। এই লোকগুলোর মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। মানুষ দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করছিল।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্ত

জবানবন্দিতে কবির হোসেন বলেন, এ সময় তিনি দ্রুত তাঁর দুই ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়ে পদচারী–সেতু থেকে নিচে নেমে আসেন। তিনি তাঁর ছেলে জাবেরের হাত ধরে পূর্ব দিকে বাসা অভিমুখে দৌড়াচ্ছিলেন। এপিবিএন সদর দপ্তরের ফটক বরাবর আসামাত্রই তাঁর ছেলে জাবির ‘আহ’ বলে চিৎকার করে। তিনি দেখতে পান, তাঁর ছেলের ঊরুতে গুলি লেগেছে। তার পা থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে ওঠেন। দুই হাসপাতাল ঘুরে যান উত্তরার ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে। সেখানে তাঁর ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।