জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধর্ষণচেষ্টাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মিনারে মানববন্ধন
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণকারীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য
দর্শন বিভাগ শিক্ষার্থী সংসদের সাবেক ভিপি রাসেল আকন্দ বলেন, একটি সংগঠনের কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে সম্বোধন করেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং যখন অনেকে রাজনীতি বোঝেনি বা ক্যাম্পাসে আসেনি, তখনও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ ধরনের ‘মববাজির’ বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার একমাত্র দাবি হওয়া উচিত ছিল অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী মূল বিচার দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে প্রশাসনিক পদত্যাগের ইস্যুকে সামনে এনেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনের আগে থেকেই উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পক্ষে এবং আওয়ামী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমন একজন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজ ও আন্দোলনকারীদের জন্য লজ্জাজনক।
মানববন্ধনে দর্শন বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রুবিনা জাহান তিথি বলেন, শিক্ষার্থীরা সব সময় ন্যায্য দাবিতে কথা বলবে এবং আন্দোলন করবে। তবে সেই আন্দোলনের ভাষা অবশ্যই হতে হবে মার্জিত, শালীন ও দায়িত্বশীল। তিনি আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও যদি আমরা একজন শিক্ষকের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের সীমা ভুলে যাই, তাহলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে রাত ২টার দিকে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যায়িত করে।



