ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’, সরাসরি জানান অভিযোগ
ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা

সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ নামের একটি নতুন সেবা। এই সেবার মাধ্যমে জেলার যেকোনো নাগরিক সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের অভাব-অভিযোগ, তথ্য ও মতামত জানাতে পারবেন।

মতবিনিময় সভায় ঘোষণা

রোববার (১৭ মে) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। ‘গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এই আয়োজনে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের ‘জাতির দর্পণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ফরিদা খানম বলেন, ‘সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের আয়না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের প্রকৃত চিত্র ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমাদের সামনে উঠে আসে। আপনারা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে প্রশাসনকে সহায়তা করবেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের যেকোনো অনিয়ম নির্দ্বিধায় তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা জেলা প্রশাসনের কোনো দপ্তরে যদি কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হন বা অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখে পড়ে, তবে তা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তুলে ধরবেন। আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ নামের যে প্ল্যাটফর্মটি চালু করতে যাচ্ছি, সেখানেও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি তাদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। আপনাদের প্রতিবেদন ও নাগরিকদের সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফরিদা খানমের পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েন ফরিদা খানম। ২৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে উপসচিব হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ফরিদা খানমের এই নিয়োগকে দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কর্মজীবনে নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়তা, সততা এবং বহুমুখী প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এরই মধ্যে সর্বমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন। ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলার শীর্ষ পদে তার এই বলিষ্ঠ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

মতবিনিময় সভায় ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ)-এর নেতৃবৃন্দ এবং আদালতে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জেলা প্রশাসকের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।

সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার এবং তেজগাঁও সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

এছাড়া ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুক এবং নবাবগঞ্জের ইউএনও দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।