টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় একটি গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌরনীতি বিষয়ের পরিবর্তে অর্থনীতি বিষয়ের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এতে করে ওই কেন্দ্রের ১১ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা প্রায় আধাঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল দশটায় ঘাটাইল উপজেলার সানবান্দা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা শুরুর পর পরীক্ষার্থীরা লক্ষ্য করেন যে তাদের হাতে পৌরনীতি বিষয়ের পরিবর্তে অর্থনীতি বিষয়ের প্রশ্নপত্র এসেছে। এ বিষয়টি কেন্দ্র সচিব নছরুল্লাহর নজরে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই ১১ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনা জানাজানি হলে কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবেশপত্র সংশোধনের আশ্বাস পান। এরপর পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা পরে পরীক্ষার্থীদের পৌরনীতি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্ত কমিটি গঠন
এ ঘটনার তদন্তে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন রেজভীকে। অন্য সদস্যরা হলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ও সমবায় কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান। কমিটি দ্রুত তদন্ত করে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্তে দায়ী প্রধান শিক্ষক
তাৎক্ষণিক তদন্তে কমিটি এ ঘটনার জন্য সানবান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. হালিমকে দায়ী করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশনের সময় কোড নম্বর লিখতে হয়। ১৪০ নম্বর কোডে রয়েছে পৌরনীতি এবং ১৪১ নম্বর কোডে রয়েছে অর্থনীতি। প্রধান শিক্ষক ভুলবশত ১৪১ নম্বর কোড পূরণ করে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে এই গোলযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
প্রধান শিক্ষক আ. হালিম এ বিষয়ে বলেন, রেজিস্ট্রেশনের সময় কোড নম্বর লিখতে হয়। ১৪০ নম্বর কোডে রয়েছে পৌরনীতি এবং ১৪১ নম্বর কোডে রয়েছে অর্থনীতি। ফলে তারা ভুলবশত ১৪১ নম্বর কোড পূরণ করে স্বাক্ষর করেছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইউএনও ও কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এডমিট কার্ড সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
ইউএনওর বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষকের। প্রতিবেদনটি আজই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।



