চট্টগ্রামের মীরসরাই আসনের (চট্টগ্রাম-১) সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে (৮৩) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মীরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের চার সন্তান ও নাতিরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃতীয় জানাজা ও দাফন
এর আগে বিকাল ৫টায় মহাজানহাট কলেজ মাঠে মোশাররফ হোসেনের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় জাতীয় পতাকায় মোড়া মরদেহবাহী গাড়িতে করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে মরদেহ নেওয়া হয়। কবরস্থানের কাছাকাছি নেওয়ার পর মোশাররফ হোসেনের মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
দ্বিতীয় জানাজা ও শেষ বিদায়
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারও মুসল্লি অংশ নেন। এই জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন শাহ।
জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বের করার সময় কিছু মুসল্লি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে যান। তবে কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
শ্রদ্ধা ও সমবেদনা
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের জন্য অনেক কাজ করেছেন। তিনি বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। যদিও মোশাররফ হোসেন মীরসরাইয়ের সন্তান, তবে তার অবদানের কথা বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসী আজীবন স্মরণ করবেন বলে উল্লেখ করেন মেয়র।
সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও তার বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মৃত্যু ও জীবনকাল
বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান জানান, শারীরিক নানা জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ছিলেন তার বাবা। বুধবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করা মোশাররফ হোসেন একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সফল শিল্পপতি ছিলেন। মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি। দলে সর্বশেষ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।



