বাংলালিংক চালু করতে যাচ্ছে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা, অংশীদার স্টারলিংক মোবাইল
বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা চালু করতে যাচ্ছে বাংলালিংক, যা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক মোবাইলের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই উদ্যোগটি দেশের দূরবর্তী ও নেটওয়ার্ক-বঞ্চিত অঞ্চলগুলিতে ডিজিটাল সংযোগ প্রসারিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সেবার বিস্তারিত ও সুবিধাসমূহ
স্টারলিংক মোবাইল বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম স্যাটেলাইট টু মোবাইল নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত, যা ইন্টারনেট, ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং বার্তা সেবা প্রদান করে। বাংলালিংক তাদের নেটওয়ার্কে এই উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সংযুক্ত করছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।
বাংলালিংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই সুবিধা চালু হলে যেসব স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না বা সিগন্যাল দুর্বল থাকে, সেসব স্থানেও বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক সংযোগ পাওয়া যাবে। শুরুতে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং সুবিধা দিয়ে সেবাটি চালু করা হবে, এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অডিও ও ডেটা সেবা যুক্ত করা হবে।
নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও চালুর সময়সীমা
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই দেশে এই সুবিধাটি চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য
নতুন এই সুবিধা চালুর বিষয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, 'সংযোগ মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, সংযোগ মানে মানুষের প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকা। অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের এখনো কিছু এলাকা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক কাভারেজের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কমিয়ে দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী এলাকাতেও সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।'
স্টারলিংক মোবাইলের প্রতিক্রিয়া
স্টারলিংক মোবাইলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) স্টেফানি বেডনারেক বলেন, 'বাংলালিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সংযোগ চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ সংযুক্ত থাকতে পারবেন। ভিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্বে তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই সেবা চালু হচ্ছে, যা সবার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।'
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।



