বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে তহমিনা পেল 'কন্যা সাহসিকতা' সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা
বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে তহমিনার 'কন্যা সাহসিকতা' সম্মাননা

বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে তহমিনা পেল 'কন্যা সাহসিকতা' সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য সাহস দেখিয়েছে। এজন্য তাকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে 'কন্যা সাহসিকতা' সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের বিবরণ

বুধবার পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ তহমিনা আক্তারকে এই সম্মাননা ও অনুদান হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ের অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোসা. নাজমুন নাহার এবং জিয়ানগর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরে জান্নাত ফেরদৌসী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, 'অদম্য সাহসী নারী শিক্ষার্থী তহমিনা আক্তার যে সাহসিকতার পরিচয় দেখিয়েছে তা দেখে আমরা মুগ্ধ। ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তহমিনাকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তহমিনার পটভূমি ও ঘটনার ক্রম

তহমিনা আক্তার পিরোজপুরের জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে জিয়ানগর উপজেলার ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ১নং চাড়াখালী ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে।

গত ১৮ এপ্রিল নিজের বাল্যবিয়ের হাত থেকে রেহাই পেতে তহমিনা জিয়ানগর থানায় অবস্থান নেয়। বিষয়টি যুগান্তরে প্রকাশ হওয়ার পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তার বাল্যবিয়ের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। 'বাল্যবিয়ে দেবে না' এই শর্তে তার বাবার কাছ থেকে এ বিষয়ে মুচলেকা রাখা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের সহায়তা নিয়ে নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে তহমিনা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার এই সাহসিকতা ও দৃঢ়তার স্বীকৃতি হিসেবে জেলা প্রশাসন এই সম্মাননা প্রদান করেছে।

অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও প্রভাব

এই ঘটনা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও নারী শিক্ষার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তহমিনার উদাহরণ অন্যান্য মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তহমিনার পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সহযোগিতাও এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা তহমিনার ভবিষ্যৎ শিক্ষা যাত্রাকে সুগম করবে।