পল্লবী ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সাজা: শিশুর বাবা খুশি, রায় দ্রুত কার্যকর চান
পল্লবী ধর্ষণ-হত্যা: শিশুর বাবা খুশি, রায় দ্রুত কার্যকর চান

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার আট বছরের শিশুটির বাবা বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ তিনি রায় দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন। আজ রোববার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলহামদুলিল্লাহ ১০০% খুশি। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।’

শিশুটির বাবা পরিবারকে বিপদের সময় মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। এর আগে সকাল ১০ টা ২৭ মিনিটে মামলার রায় শুনতে আদালতে আসেন তিনি। রায় চলাকালে বেঞ্চে বসে একপর্যায়ে তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর জন্য বাইরে থেকে দুটি ফ্যান নিয়ে আসা হয়। রায় চলাকালীন তিনি পুরো সময় মাথা নিচু করে বসেছিলেন।

১৯ দিনের মাথায় রায়

শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করলেন আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ঘটনার দিন (১৯ মে) যে সময় পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়, তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে স্বীকারোক্তি ও বিচার প্রক্রিয়া

২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এ মামলায় ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চার্জগঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।

উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার মা–বাবার নাম, পরিচয় দেওয়া হলো না।