শেরপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সচল রাখা হয়।
রোগীদের ভোগান্তি
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। রোগী ও তাদের স্বজনরা এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী জসিম বলেন, ‘আমরা চিকিৎসা নিতে নকলা হাসপাতালে এসেছি, কিন্তু এখানে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। অনেক সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই, বাথরুমে পানিও নেই। অন্ধকারে বসে থাকতে হচ্ছে, দেখার মতো কেউ নেই।’ আরেক রোগী বলেন, ‘হাসপাতালে খাবারের ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ থাকে না। চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। অনেকক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ নেই।’
চিকিৎসকদের বক্তব্য
হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. সাগর সাহা বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আজ প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। মোমবাতি জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগে রোগীদের সাপোর্ট দিতে হয়েছে। এখনও ইমারজেন্সিতে বিদ্যুৎ নেই। তিনতলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ খুবই দুর্বল। ভোল্টেজ ঠিক নেই। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগী বেডের পাশাপাশি মেঝেতেও অবস্থান করছেন।’
নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এটা হয়তো লোডশেডিংয়ের কারণে হয়েছে।’ বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের আইপিএস ও জেনারেটর দুটোই নষ্ট।’ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অফিস টাইমে যোগাযোগ করতে বলে ফোন কেটে দেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জেনারেটর ঠিক আছে কিনা তাও নিশ্চিত নই। বিষয়টি দেখা হচ্ছে, খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’ পরে মধ্যরাতে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের হস্তক্ষেপে তিন ঘন্টা পর রাত ১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। এ সময় বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (আইপিএস/জেনারেটর) সচল করার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।



