বান্দরবানে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে তিন রাবার শ্রমিক অপহরণ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় এক মর্মান্তিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে তিন রাবার শ্রমিক জিম্মি হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার মুসতইল্লা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত আবীর রাবার বাগানের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও বাগান কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, রাতের আঁধারে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল মুখোশ পরে স্টাফ ঘরের দরজায় এসে দরজা খুলতে বলে। ভেতরে থাকা শ্রমিকরা দরজা খুলতেই অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ফেলে।
ঘটনার বর্ণনা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ
ঘটনার সময় স্টাফ কোয়ার্টারে নারী-পুরুষসহ মোট ১৩ জন ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তিনজন তরুণ শ্রমিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। অপহৃতরা হলেন— টেকনাফ উপজেলার শফিউল্লাহ কাটার বাসিন্দা মো. ছিদ্দিকের ছেলে নুরুল ইসলাম (২০), আনোয়ারের ছেলে এনামুল হক (২০) এবং খুইল্যা মিয়ার ছেলে হাসান (২০)। ঘটনার সময় উপস্থিত বাগানের টেপার নুরুল ইসলাম জানান, "হঠাৎ গভীর রাতে দরজায় শব্দ পেয়ে আমরা জেগে উঠি। দরজা খুলতেই মুখোশধারী সশস্ত্র লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনজনকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা কেউই প্রতিরোধ করতে পারিনি।"
দুর্বৃত্তরা যাওয়ার সময় স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, ২টি দা এবং ৩টি টর্চলাইট নিয়ে যায় বলেও জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ঘটনার খবর পেয়েছি। অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" আবীর রাবার বাগানের মালিক ও বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল করিম বান্টু বলেন, "বাগানের শ্রমিক নুরুল ইসলাম ফোন করে অপহরণের বিষয়টি আমাকে জানান। সঙ্গে সঙ্গে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি।"
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, "আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।" এই ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও এলাকার আতঙ্ক
উল্লেখ্য, এর আগে একই এলাকায় তামাক চাষির অপহরণের ঘটনাও ঘটেছিল। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে বলছেন, "এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
এই অপহরণ ঘটনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় উত্তেজনা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এখন সকলের নজরে। অপহৃত তিন তরুণ শ্রমিকের নিরাপদ ফিরে আসা এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারই এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।



