শাহজালালে ট্রলি সংকটে হাজি-যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
শাহজালালে ট্রলি সংকটে হাজি-যাত্রীদের ভোগান্তি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনের ট্রলি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রলি পাচ্ছেন না যাত্রীরা। একদিকে ফিরতি হজ ফ্লাইট, অপরদিকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট—সব মিলিয়ে ট্রলির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে বিমানবন্দরে।

যাত্রীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ

সময়মতো ট্রলি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাজিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে বিমান থেকে নেমে লাগেজ সংগ্রহ করে বিমানবন্দর ছাড়তে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।

হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হাজি আনসার আলী বলেন, “আমরা সুন্দরভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরেছি। কিন্তু বিমানবন্দরে নেমে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। ট্রলি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। একপর্যায়ে ট্রলি শেষ হয়ে যাওয়ায় আরও অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিমানবন্দর থেকে বের হতে পেরেছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, “এ ধরনের ব্যবস্থাপনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সামান্য ট্রলির জন্য কেন এমন সংকট হবে? এটি কিনতে তো শত কোটি টাকা লাগে না।”

আরেক হাজি ওসমান গনি বলেন, “সামান্য একটি বিষয় নিয়ে যাত্রীদের এত ভোগান্তিতে পড়তে হবে কেন? ট্রলির সংকট দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো বার্তা দেয় না।”

তিনি বলেন, “আমার লাইনে কয়েকজন বিদেশি যাত্রীও ছিলেন। তারা আমাদের দেশ সম্পর্কে কী ধারণা নিয়ে গেলেন? ট্রলির এই অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

দীর্ঘদিনের সংকট ও কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট রয়েছে। একসঙ্গে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করলেই ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয়। বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহের পর ট্রলি পেতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ট্রলি সংকট এবং মশক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে হজ মৌসুমে যাতে ট্রলির কোনও সংকট না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ক্রয় বিভাগ ৫০০টি ট্রলি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সদর দফতরে পাঠায়। তবে বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে শাহজালাল বিমানবন্দরে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও ৫০০টি ট্রলি কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ ট্রলিগুলো থাকলে হাজি ও সাধারণ যাত্রীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না। ট্রলি কেনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়েরও নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা আমলে নেননি।

তাদের দাবি, ট্রলির তীব্র সংকটের কারণে হাজিরা বিমানবন্দরে নেমে ভোগান্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন। বিষয়টি আলোচনায় আসার পরই সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এখন অল্প সময়ে নতুন ট্রলি কেনা সম্ভব না হওয়ায় অন্য বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, এটি সংশ্লিষ্টদের এক ধরনের খামখেয়ালিপনার ফল। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পরও ট্রলি কেনা না হওয়ায় বিমানবন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং কর্মকর্তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয় এবং আমরা সমস্যায় পড়ি।”

তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি আনা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সেগুলো শাহজালাল বিমানবন্দরে যুক্ত করা হয়েছে।

ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া বাতিল হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া বাতিল হয়নি, এটি এখনও চলমান রয়েছে।”