প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি একটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও ছয়টি মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন চেয়ে দীপু মনির করা পৃথক সাতটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার একটিতে জামিন এবং বাকিগুলোয় রুল দেন।
জামিনের মামলা
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা দীপু মনি জামিন পেয়েছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি হত্যা মামলায়। জুলাই আন্দোলনের সময় মুদিদোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে মামলাটি হয়েছিল।
আদালতে দীপু মনির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হেমায়েত উল্লাহ।
রমজান আলী শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, মোহাম্মদপুর থানার ওই মামলার এজাহারে দীপু মনির নাম নেই, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। এ মামলায় হাইকোর্ট রুল দিয়ে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও মামলা
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা থেকে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আবু সায়েদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই মামলাসহ সাতটি মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক সাতটি আবেদন করেন দীপু মনি। আবেদনগুলো হাইকোর্টের আজকের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য উঠেছিল।
অন্য মামলায় রুল
আইনজীবী রমজান আলী জানান, অন্য ছয় মামলায় কেন দীপু মনিকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। ওই মামলাগুলোও হত্যার অভিযোগের বলে জানান দীপু মনির এই আইনজীবী। মামলাগুলো রাজধানীর বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী থানার।
হত্যা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে দীপু মনির বিরুদ্ধে প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে বলে জানান তাঁর আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।
দীপু মনির পরিচিতি
চিকিৎসা শাস্ত্র ও আইনের ডিগ্রিধারী দীপু মনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার পরের একটি সরকারে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সরকারে তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ওই বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে তাঁর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে। তারপর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।



