ঢাকার মিরপুরে এক বাসভবনে নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার চার সন্তানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন এই নোটিশ জারি করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং বয়স্ক অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জড়িত।
নোটিশে সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বয়স্ক নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব। পাশাপাশি ২০১৩ সালের পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা সন্তানদের ওপর তাদের পিতামাতার যত্ন, সহায়তা ও ভরণপোষণের আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
আইনজীবী মৃত নূরজাহান বেগমের চার সন্তান—খুলনা বন্দরের যুগ্মসচিব ডা. এ কে এম আনিসুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডাপ্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান ও স্কুলশিক্ষিকা ফাতেমা নাসরিন সুলতানার কাছে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, মৃতের যত্ন, চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন কি না এবং তাদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না; তারা তার দীর্ঘদিনের একাকীত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না; এবং সঠিক যত্নের দাবি সমর্থনে তাদের কাছে কী কী নথি আছে। এছাড়া একটি স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাইকোর্টের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বয়স্ক নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, যদি একজন মা অবহেলায় একা মারা যান এবং তার মৃতদেহ দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকে, তবে তা গুরুতর নৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নোটিশের উদ্দেশ্য কাউকে অভিযুক্ত বা অপমান করা নয়, বরং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা চাওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল এবং বয়স্কদের যত্ন নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। তিনি অবহেলা প্রমাণিত হলে যথাযথ তদন্ত ও আরও আইনি পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।



