ভারতের জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাব্য কর্ণাটক নিজের অফিসের কর্মীদের জন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা ‘পিকনিক’ বাধ্যতামূলক করেছেন। তিনি একই সঙ্গে ডকুমেন্টারি স্টোরিটেলার ও মিডিয়া উদ্যোক্তা এবং ‘কে কে ক্রিয়েট’–এর প্রতিষ্ঠাতা।
লিংকডইনে পোস্ট
সম্প্রতি লিংকডইনে এক পোস্টে কাব্য বলেন, তাঁর দপ্তরে মোট ৪০ জন কর্মী কাজ করেন। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে তাঁরা সবাই এক ঘণ্টা কাজ থেকে বিরতি নেন এবং অফিসের ভেতর পিকনিক করেন। এ সময় সব কর্মী এক জায়গায় জড়ো হন, একত্রে খাবার ভাগাভাগি করে খান। এই চর্চার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও একাত্মতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে বলে তিনি মনে করেন।
ছবি ও বক্তব্য
অফিসের ভেতর কর্মীদের একসঙ্গে হাসিমুখে খাবার খাওয়ার একটি ছবি পোস্ট করে কাব্য কর্ণাটক লেখেন, ‘প্রতিদিন আমাদের অফিসে এক ঘণ্টার পিকনিক হয় এবং এটা বাধ্যতামূলক। আমরা ৪০ জনের একটি দল, যারা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে, ভিন্ন ভিন্ন ডেডলাইনে আর নানা ব্যস্ততার মধ্যে কাজ করি। কিন্তু যখনই ঘড়িতে বেলা দুইটা বাজে, তখন সবকিছু যেন থেমে যায়, আর সবাই হলরুমে মিলিত হই।’
আসনবিন্যাস
এই ব্যবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাব্য আরও লিখেছেন, হলরুমে কর্মীদের বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। কর্মীরা কোনো নির্দিষ্ট বসার আসন ছাড়াই একে অপরের সঙ্গে জায়গা ভাগ করে নেন। কাব্য লিখেছেন, ‘সব জায়গা থেকে চেয়ার টেনে আনা হয়। কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, কেউ ভিড়ের মধ্যে গা ঘেঁষে বসে, কেউ টেবিলের কোণায় বসে খায়। কারণ, কে কে ক্রিয়েটে কেউ একা খায় না। ওই টেবিলে কোনো পদমর্যাদার ভেদাভেদ নেই। ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে নতুন কর্মী—সবাই একসঙ্গে খায়।’
ব্যবস্থাপকদের ভূমিকা
ব্যবস্থাপকেরাই সাধারণত দুপুরে এই এক ঘণ্টা পিকনিক শুরু করতে অগ্রণী ভূমিকা নেন বলেও জানান কাব্য। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপকেরা সক্রিয়ভাবে নিজ নিজ দলকে ডেস্ক থেকে উঠে এসে একসঙ্গে খাবার খেতে উৎসাহিত করেন।
দলগত একাত্মতা
এক ঘণ্টার এই বিরতি তাঁর কর্মীদের সত্যিকারের একটি দল হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন কাব্য। এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, ‘এই সংস্কৃতি বিরল, সত্যিই কি তাই? কিছু কিছু দিনে একে অফিস বলেই মনে হয় না। মনে হয় যেন একটি পরিবার একসঙ্গে খাবার খেতে বসেছে। এই ৬০ মিনিট আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কাজের বাইরে মানুষের মধ্যে এ সংযোগই সত্যিকারের একটি দল গড়ে তোলে।’



