ভারতে এআই মেগাহাব নির্মাণ শুরু করল গুগল
ভারতে এআই মেগাহাব নির্মাণ শুরু করল গুগল

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ হাব তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। মঙ্গলবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বন্দরনগরী বিশাখাপত্তনমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

গত বছরের অক্টোবরে গুগল ঘোষণা দিয়েছিল যে, আগামী পাঁচ বছরে তারা এ বিশাল কেন্দ্রটি নির্মাণে ১৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে। ‘ভাইজাগ’ নামে পরিচিত প্রায় ২০ লাখ মানুষের এ শহরটি এখন গুগলের ডিজিটাল বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে।

গুগলের প্রতিশ্রুতি

গুগলের গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিকাশ কোলি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আজকের এ দিনটি ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যতের প্রতি গুগলের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতির প্রথম মাইলফলক। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলব’। তিনি আরও জানান, এ প্রকল্পের মূলে রয়েছে বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস। এটি মূলত এআই যুগের বিশাল কম্পিউটেশনাল চাহিদা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে, যা গুগলের ‘জেমিনি’ এবং সার্চ ইঞ্জিনের মতো সেবাগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

অন্ধ্র প্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত এআই এবং ডিপ-টেক হাব নির্মাণের এ যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত’।

ভৌগোলিক গুরুত্ব

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশাখাপত্তনম বা ভাইজাগকে ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে সংযোগকারী সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের মূলকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিক মূলত মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। ভাইজাগ আন্তর্জাতিক সাবসি গেটওয়ে হিসেবে যুক্ত হলে ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছে গুগল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টারের চাহিদা

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ডিজিটাল ডাটা সংরক্ষণ এবং শক্তি-নিবিড় এআই টুল প্রশিক্ষণের জন্য ডাটা সেন্টারের চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বাড়ছে। বিকাশ কোলি একে ভারত এবং গুগল—উভয় পক্ষের জন্যই একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।