সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেকের সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এর ফলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর এই জোটের সক্ষমতা কমে যাবে এবং বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেকের এমন গুটিকয়েক সদস্যের মধ্যে অন্যতম, যারা দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে। এটিই মূলত জোটটির তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।
লিওন বলেন, কাঠামোগতভাবে দুর্বল ওপেক জোটের হাতে এখন উদ্বৃত্ত উৎপাদন সক্ষমতা কম থাকবে। তাদের জন্য সরবরাহ ঠিক রাখা এবং তেলের দাম স্থিতিশীল করা ক্রমবর্ধমানভাবে কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও খণ্ডিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়বে।
ইউরোপের উদ্বেগ
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আল-জাজিরার বার্লিন প্রতিনিধি ডমিনিক কেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন দেশ আশঙ্কা করছে যে, আগামী কয়েক মাসে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সর্বশেষ সুইডেন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির অর্থনীতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ করে জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তারা অত্যন্ত চিন্তিত।
বুধবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ওপেক ও ওপেক প্লাসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভিয়েনাতেই ওপেকের সদর দফতর অবস্থিত। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত শেষবারের মতো অংশ নেবেন।
ওপেক কী?
আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের পর ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। ১৯৬০ সালে গঠিত এই সংস্থার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা, যাতে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং উৎপাদকরা ন্যায্য আয় পায়। জোটের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে রয়েছে-আলজেরিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা।
সদস্য দেশগুলো নিয়মিত বৈঠক করে তেলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এবং বৈশ্বিক দাম নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন সমন্বয় করে। বর্তমানে এই জোট বিশ্বব্যাপী মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫ শতাংশ উৎপাদন করে এবং বিশ্ববাজারে বাণিজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তেলের দাম কমে যাওয়ায় ওপেক রাশিয়া ও অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী ১০টি দেশের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা ‘ওপেক প্লাস’ নামে পরিচিত।



