আম খেয়ে অসুস্থ বা মৃত্যুর ঘটনা কেন ঘটে? তিনটি মারাত্মক কারণ
আম খেয়ে মৃত্যু: তিনটি প্রধান কারণ জানুন

গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফল আম। মিষ্টি স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে এটি 'ফলের রাজা' হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুরে আম খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই পরিবারের আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও আম খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন ঘটনা ঘটে? চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

১. বিষাক্ত কীটনাশক ও কার্বাইডের ব্যবহার

অসাধু ব্যবসায়ীরা আম পাকাতে বা সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করে। এটি মৃত্যুর অন্যতম কারণ। অর্গানোফসফেট পয়জনিং: আমে ব্যবহৃত তীব্র কীটনাশক স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দেয়। ২০১৮ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে কীটনাশকযুক্ত আম খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন: আম পাকাতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে আর্সেনিক ও ফসফরাস উৎপন্ন হয়, যা পাকস্থলীর আলসার, কিডনি নষ্ট ও ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে মৃত্যু ডেকে আনে।

২. আমের মারাত্মক অ্যালার্জি বা অ্যানাফিল্যাক্সিস

অনেকের ধারণা আম খেলে সামান্য চুলকানি হয়, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, আম অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যাকে ইমিডিয়েড মাংগো হাইপারসেন্সিটিভিটি বলে। আম খাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে অ্যানাফিল্যাক্সিস শুরু হতে পারে, যাতে গলা ও ঠোঁট ফুলে যায়, তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় ও রক্তচাপ কমে মৃত্যু হতে পারে। দিল্লির বল্লভভাই প্যাটেল চেস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানান, আমের অ্যালার্জেন ক্যানড জুসেও নষ্ট হয় না। এমনকি আমের কষ বা গাছের সংস্পর্শেও ত্বকে প্রদাহ দেখা দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিং

খুলনার ঘটনায় ফুড পয়জনিং বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনকে দায়ী করা হচ্ছে। পচা বা ব্যাকটেরিয়ায় (যেমন সালমোনেলা, ই-কোলাই) আক্রান্ত আম শরীরে বিষ তৈরি করে। তীব্র ডায়রিয়া ও বমিতে দ্রুত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শক বা অর্গান ফেইলিউরে মৃত্যু হতে পারে।

জরুরি সতর্কতা

  • আম কেনার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, যাতে কীটনাশক ও কষ ধুয়ে যায়।
  • আমের বোঁটার অংশ কেটে ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • অতিরিক্ত নরম, পচা বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত আম খাবেন না।
  • আম খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট-গলা ফোলা বা তীব্র পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে