স্মার্টফোনের অনেক অপ্রয়োজনীয় সেটিংস ডিফল্টভাবেই চালু থাকে, যা অযথাই ফোনের ব্যাটারি দ্রুত খরচ করে, ডেটা ব্যবহার করে প্রাইভেসি নষ্ট করে, এমনকি ফোনের গতিও কমিয়ে দিতে পারে। সেটিংসগুলো ফোনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেললেও এগুলো আমাদের অনেকেরই অজানা। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এই পাঁচটি সেটিংস পর্যালোচনা করলে ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে আরও নিরাপদ, অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি খরচ কমবে এবং বাড়বে ফোনের আয়ুষ্কাল।
১. নেয়ারবাই ডিভাইস স্ক্যানিং বন্ধ করুন
যেখানে পাবেন: সেটিংস > গুগল > ডিভাইসেস অ্যান্ড শেয়ারিং > ডিভাইসেস > স্ক্যান ফর নিয়ারবাই ডিভাইসেস (কিছু ফোনে: সেটিংস > কানেকশন অ্যান্ড শেয়ারিং > নিয়ারবাই ডিভাইস স্ক্যানিং)।
এই ফিচারটি আশপাশের সক্রিয় ডিভাইস খুঁজতে নিয়মিত স্ক্যান চালায়। ফিচারটি বন্ধ করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে এর কার্যক্রম অযথা ফোনের ব্যাটারি খরচ অনেকাংশে কমাবে।
২. পাসওয়ার্ড ভিজিবিলিটি বন্ধ রাখুন
যেখানে পাবেন: সেটিংস > প্রাইভেসি > শো পাসওয়ার্ডস (কিছু ফোনে: সেটিংস > অ্যাডিশনাল সেটিংস > প্রাইভেসি > শো পাসওয়ার্ডস)।
এটি চালু থাকলে টাইপ করা প্রতিটি পাসওয়ার্ড কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্ক্রিনে দেখা যায়। জনসমাগমে বা অন্য কেউ পাশে থাকলে এটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অপশনটি বন্ধ করলে পাসওয়ার্ড গোপন থাকবে এবং ‘শোল্ডার সার্ফিং’ বা পাশ থেকে দেখে ফেলার ঝুঁকি কমবে।
৩. ডায়াগনস্টিক ডেটা শেয়ারিং বন্ধ করুন
যেখানে পাবেন: সেটিংস > প্রাইভেসি > ইউসেজ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস (কিছু ফোনে: সেটিংস > সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি > ইউজার এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম)।
এই ফিচারের মাধ্যমে ফোনের নির্দিষ্ট কিছু ডেটা, ক্র্যাশ রিপোর্ট ও সিস্টেমের তথ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। এই তথ্য পাঠানোর সময় ফোনের মেমোরি ও মোবাইল ডেটার অহেতুক খরচ হয়, কিছুক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যবহারের ডেটাও সংগ্রহ করা হয়।
৪. মোবাইল ডেটা দিয়ে অ্যাপ আপডেট বন্ধ করুন
যেখানে পাবেন: গুগল প্লে স্টোর > সেটিংস > নেটওয়ার্ক প্রেফারেন্সেস > অ্যাপ ডাউনলোড প্রেফারেন্স > অটো-আপডেট অ্যাপস > ওভার ওয়াই-ফাই অনলি নির্বাচন করুন।
ডিফল্ট সেটিংসে অনেক সময় মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেই বড় আকারের অ্যাপ আপডেট ডাউনলোড হয়ে যায়। সেটিংসটি পরিবর্তনের মাধ্যমে মোবাইল ডেটার অপচয় রোধ হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ডেটা খরচ এড়ানো যাবে।
৫. ভার্চুয়াল মেমোরি (র্যাম এক্সপানশন) প্রয়োজন না হলে বন্ধ রাখুন
যেখানে পাবেন: সেটিংস > অ্যাবাউট ফোন > র্যাম > র্যাম এক্সপ্যানশন বা মেমোরি এক্সটেনশন বা ভার্চুয়াল র্যাম।
পর্যাপ্ত র্যাম (৮ জিবি বা তার বেশি) থাকলে এই ফিচারটি অফ রাখতে পারেন। ভার্চুয়াল র্যাম ফোনের স্টোরেজের একটি অংশকে অস্থায়ী র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে। এতে কিছু ক্ষেত্রে স্টোরেজের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এই অতিরিক্ত চাপ ফোন গরম হয়ে যাওয়ার পেছনেও অন্যতম সম্ভাব্য কারণ।
শুধু এই সেটিংসগুলোর পরিবর্তন স্মার্টফোনে আনতে পারে দৃশ্যমান ইতিবাচক প্রভাব, যা দীর্ঘমেয়াদে ফোনের কার্যকারিতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।



