কয়েক দশক ধরে গবেষণাগারের একটি সাধারণ ড্রয়ারেই পড়ে ছিল এক প্রাচীন ডাইনোসরের হাড়। অবশেষে দীর্ঘ সময় পর সেই ড্রয়ার থেকে অ্যান্টার্কটিকার এক বিরল ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। হাড়টি মূলত টাইটানোসর নামের একটি লম্বা গলাবিশিষ্ট, তৃণভোজী ডাইনোসরের লেজের অংশ। তবে এটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা বিজ্ঞানীরা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।
আবিষ্কারের ইতিহাস
১৯৮৫ সালে অ্যান্টার্কটিকার জেমস রস দ্বীপে এক অভিযানের সময় ভূতত্ত্ববিদ মাইক থমসন এই জীবাশ্মটি খুঁজে পেয়েছিলেন। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের হয়ে ওই এলাকার পাথরের স্তর মানচিত্রায়নের কাজ করার সময় তিনি এটিকে একটি বড় সরীসৃপের হাড় হিসেবে নথিবদ্ধ করেন। কয়েক দশক পর, জীবাশ্মবিদ মার্ক ইভানস ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের সংগ্রহশালায় হাড়টি দেখে ভাবেন এটি কোনও ডাইনোসরের হতে পারে। এরপর অন্য গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে হাড়ের গঠন বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য ডাইনোসরের অবশেষের সঙ্গে তুলনা করে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন। সোমবার বিজ্ঞান সাময়িকী অ্যাক্টা প্যালেনটোলজিকা পোলোনিকা-তে এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়।
অ্যান্টার্কটিকায় ডাইনোসরের বিরলতা
অ্যান্টার্কটিকার চরম প্রতিকূল বরফের চাদরের কারণে সেখানে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত বিরল। তবে কোটি কোটি বছর আগে যখন এই ডাইনোসরটি বেঁচে ছিল, তখন এই অঞ্চলটি ঘন বনে ঘেরা ছিল। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-লেখক পল ব্যারেট বলেন, “তদানীন্তন সময়ে অঞ্চলটি বর্তমানের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি বাসযোগ্য ছিল।”
ডাইনোসরের আকার ও মৃত্যুর ধারণা
প্রায় ২৩ ফুট (৭ মিটার) লম্বা এই ডাইনোসরটি তার দলের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় আকারে বেশ ছোট ছিল; তাই ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুর সময় এটি বেশ কম বয়সী ছিল। কীভাবে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল তা জানা না গেলেও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মৃত্যুর পর দেহটি সমুদ্রের উপকূল থেকে ভেসে গিয়ে তলদেশে তলিয়ে যায় এবং সামুদ্রিক পাথরের নিচে জীবাশ্মে পরিণত হয়।
প্রযুক্তির উন্নতি ও আবিষ্কারকের মৃত্যু
প্রথমবার হাড়টি পাওয়ার পর থেকে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, যা গবেষকদের হাড়ের ভেতরের গঠন পরীক্ষা করে প্রাচীন প্রাণীদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে জীবাশ্মটি যে একটি ডাইনোসরের, তা শনাক্ত হওয়ার আগেই ২০২০ সালে মারা যান এর আবিষ্কারক মাইক থমসন। গবেষণার অন্যতম সহ-লেখক ইভানস বলেন, “তিনি যদি আজ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, তবে এটি কী ছিল তা জানতে পেরে ভীষণ আনন্দিত হতেন।”



