চীনা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন দীর্ঘায়ু ধানের জাত, একবার রোপণে বহুবার ফলন সম্ভব
চীনে দীর্ঘায়ু ধানের জাত উদ্ভাবন, একবার রোপণে বহুবার ফলন

চীনা বিজ্ঞানীরা দীর্ঘায়ু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, একবার রোপণে বহুবার ফলন সম্ভব

চীনা বিজ্ঞানীরা একটি যুগান্তকারী গবেষণায় ধানগাছের আয়ু বাড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই উদ্ভাবনের ফলে একবার রোপণ করেই ধানের ফলন পাওয়া যাবে বছরের পর বছর, যা বারবার চাষের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চীনা বিজ্ঞান একাডেমির গবেষক হান বিন ও ওয়াং চিয়াওয়েই, এবং এটি আন্তর্জাতিক জার্নাল সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাচীন বন্য ধানের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগানো হয়েছে

সাধারণত, চাষযোগ্য ধান একটি মৌসুমি বা বার্ষিক ফসল হিসেবে পরিচিত, যেখানে একবার কাটার পর গাছটি মারা যায়। তবে প্রাচীন বন্য ধানের মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ছিল, যা গাছকে দীর্ঘ সময় বাঁচিয়ে রেখে পুনরায় নতুন করে জন্মাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন ধানের জাত তৈরি করেছেন, যা কৃষি খাতে বিপ্লব আনতে পারে।

‘ইবিটি-১’ জিনের ভূমিকা ও গবেষণার বিস্তারিত

গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ‘ইবিটি-১’ নামের একটি বিশেষ জিন চিহ্নিত করেছেন, যা গাছের বার্ধক্য প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই জিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, গাছটি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকে এবং একই গাছ থেকে বারবার নতুন কুঁড়ি গজাতে সক্ষম হয়। এই প্রক্রিয়াটি ধানগাছের জীবনচক্রকে পরিবর্তন করে, যার ফলে এটি বহুবার ফলন দিতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন ‘জি-৪৩’ ধানের জাতের অসাধারণ ক্ষমতা

নতুন উদ্ভাবিত ‘জি-৪৩’ ধানের জাতটি সাধারণ ধানের তুলনায় অনেক বেশি পুনরায় গজাতে সক্ষম। সাধারণ ধানে মাত্র ১০-১২টি নতুন কুঁড়ি জন্মায়, কিন্তু এই নতুন জাতটিতে প্রায় ৭০টি পর্যন্ত কুঁড়ি দেখা গেছে, যা ফলন বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে। এই বৈশিষ্ট্যটি কৃষকদের জন্য একটি বড় সুবিধা বয়ে আনবে, কারণ এটি শ্রম ও সম্পদের সাশ্রয় করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সম্ভাবনা

গবেষকরা আরও কিছু জিনের সঙ্গে এই বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে এমন ধান তৈরি করেছেন, যা মাঠে অন্তত দুই বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এটি কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।

সূত্র: সিজিটিএন