বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা বিভিন্ন দেশের (জিটুজি) ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য অনুযায়ী এই তেলের দাম পড়বে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মতো।
অভিযোগ ও সিন্ডিকেটের সক্রিয়তা
অভিযোগ আছে, যেসব কোম্পানি বিপিসির নিয়মিত দরপত্রে অংশ নিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে তাদের বেশির ভাগ কোম্পানিই কোনোরকম প্রতিযোগিতা ছাড়া জি-টু-জি ফর্মুলায় ২০ হাজার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে চাইছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা তেল সরবরাহকারী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় আছে। তারাই সরকারদলীয় বিভিন্ন সংসদ-সদস্যকে বাগে এনে এ ব্যবসা করছেন।
তেল আমদানি পদ্ধতি
সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানান, বছরে দেশের জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ দেওয়া হয় ৭০ লাখ টনের মতো। এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় দরপত্রের মাধ্যমে। বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সমঝোতা করে। জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার জন্য ১০টি দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসির চুক্তি আছে। তার আওতায় ওইসব দেশের সরকারি-বেসরকারি কোম্পানি বছরের জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর দুই ভাগে তেল সরবরাহ দেয়।
সমঝোতায় অংশগ্রহণকারী কোম্পানি
এবারের সমঝোতায় যে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সমঝোতা হবে সে সমঝোতায় অংশ নেবে-ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি ও কিউ ট্রেডিং, পেটকো মালয়েশিয়া। এর মধ্যে দরপত্রের একটি প্যাকেজে ইউনিপ্যাক জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার কাজ পেয়েছে। বাকি আরও একটি প্যাকেজে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে বিটল এশিয়া। এই দুটি কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হচ্ছেন ডা. এজাজ হোসেন। এবারের জিটুজি সমঝোতায় ওই ১০ কোম্পানির মধ্যে ওকিউ এবং বিএসপির ও স্থানীয় এজেন্ট ডা. এজাজ। এর অর্থ হচ্ছে আগামী ৬ মাসেও তার কোম্পানিগুলো বেশির ভাগ তেল সরবরাহ দেওয়ার ব্যবসা করবে।
ডা. এজাজের নিয়ন্ত্রণ
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, গত ১৭ বছর ডা. এজাজ আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের অংশীদার করে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে গেছেন। এখন বিএনপির কয়েকজন সংসদ-সদস্যের সঙ্গে সখ্য করে যথারীতি তেল সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসি এ সিন্ডিকেট ভাঙছে না। এ বিষয়ে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রিমিয়ামে সাশ্রয়
বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য প্রিমিয়াম নেওয়া হয়েছে ১০ ডলারের বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত, পুনঃযাচাই-বাচাইয়ের কারণে সেই একই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ৫ ডলারে প্রিমিয়ামে তেল দিতে সম্মত হয়। এতে করে বছরে দেশের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মানে হচ্ছে সরবরাহকারী সিন্ডিকেট মিলেমিশে তেল সরবরাহে লুটপাটের আয়োজন করেছে।



