মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সর্বোচ্চ আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিক
মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সর্বোচ্চ আয়কারী

‘মাইকেল’–এ জাফর জ্যাকসন

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মাইকেল’ নতুন ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে একের পর এক বক্স অফিস রেকর্ড ভাঙতে থাকা ছবিটি এবার সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড দখল করেছে। ছবিটি এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৯১১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে এটি ছাড়িয়ে গেছে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’র ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের আয়কে। ‘মাইকেল’ই এখন সবচেয়ে বেশি আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিক।

মাইকেল জ্যাকসনের জাদু এখনো অমলিন

ছবিটির সাফল্য আবারও প্রমাণ করেছে, মৃত্যুর ১৭ বছর পরও মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা কতটা বিস্ময়কর। বিশ্বের অন্যতম সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর প্রভাব এখনো অটুট। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে আয় করেছে ৩৫৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৫৫৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। জাপানে মুক্তির পর আয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ছবিটি এক বিলিয়ন ডলার আয় করার মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারে।

ভাতিজার অভিনয়ে ‘মাইকেল’

ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে তাঁরই ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের অভিনয়। চেহারা, নাচ ও মঞ্চ উপস্থিতিতে মাইকেলের সঙ্গে তাঁর বিস্ময়কর মিল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পরিচালনায় ছিলেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে ‘ট্রেনিং ডে’ ও ‘দ্য ইকুলাইজার’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি নির্মাণ করেছেন। চিত্রনাট্য লিখেছেন জন লোগান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যে রেকর্ডগুলো গড়েছে ‘মাইকেল’

শুধু সর্বোচ্চ আয় করা সংগীত বায়োপিকই নয়, ছবিটি আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েছে—সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক উদ্বোধনী আয়, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ আয় করা বায়োপিক, ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জীবনীচিত্র। এ ছাড়া প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাও এটি। বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে ছবিটির আয় ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’র স্থানীয় আয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, ফ্রান্স ও মেক্সিকোর মতো বড় বাজার।

একই প্রযোজকের দুই ইতিহাস

মজার বিষয় হলো, ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ ও ‘মাইকেল’—দুটি ছবিরই প্রযোজক গ্রাহাম কিং। ফলে তিনি কার্যত নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’-তে আলোচিত ব্রিটিশ ব্যান্ড কুইনের প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবন তুলে ধরা হয়েছিল। ছবিটি চারটি অস্কার জিতেছিল এবং অভিনেতা রামি মালিক সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন।

মুক্তির আগে বিতর্কও ছিল

তবে ‘মাইকেল’-এর যাত্রা একেবারে মসৃণ ছিল না। মুক্তির আগে ছবিটির চিত্রনাট্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জানা যায়, মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানালে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার ব্যয়ে পুনরায় শুটিং করতে হয়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকি সার্থক হয়েছে বলেই মনে করছেন নির্মাতারা।

সংগীত ইতিহাসে মাইকেল জ্যাকসনের অবস্থান

মাইকেল জ্যাকসনের অবস্থান অনন্য। তাঁর বিক্রি হওয়া অ্যালবামের সংখ্যা ৩৫ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হয়। ‘বিলি জিন’, ‘বিট ইট’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘স্মুথ ক্রিমিনাল’ বা ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’—এমন অসংখ্য কালজয়ী গান তাঁকে বিশ্বসংগীতের সর্বকালের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে। মাইকেলের অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ এখনো বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম। ৭ কোটির বেশি কপি বিক্রি হওয়া এই অ্যালবাম টানা ৩৭ সপ্তাহ মার্কিন চার্টের শীর্ষে ছিল।

নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে ‘মাইকেল’

সমালোচকদের মতে, ‘মাইকেল’ শুধু একটি বায়োপিক নয়; এটি নতুন প্রজন্মের কাছে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও শিল্পকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি সেতুবন্ধ। বক্স অফিসের এই সাফল্য প্রমাণ করছে, পপসম্রাটের গল্পের আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি; বরং মৃত্যুর বহু বছর পরও তাঁর জীবন, সংগীত ও বিতর্ক ঘিরে মানুষের আগ্রহ আগের মতোই প্রবল।

ডেডলাইন অবলম্বনে