অকটেন সংকটে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপিসি সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা
অকটেন সংকটে ফিলিং স্টেশনে লাইন, বিপিসি সরবরাহ বাড়াবে

অকটেন সংকটে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপিসি সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা

দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সম্প্রতি বেগমগঞ্জের একলাশপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন নেই বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ মাসে অকটেনের সরবরাহ কমায় ঢাকার পাম্পে তেল নেওয়ার লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অথচ দেশে অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির পরিকল্পনা: ২৫ শতাংশ সরবরাহ বৃদ্ধি

এ পরিস্থিতিতে আগামী রোববার থেকে বাজারে অকটেন সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে বিপিসি। সংস্থাটি বলছে, বাজারে অকটেনের সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো কারণে রোববার না হলেও সোমবার থেকে বাজারে ২৫ শতাংশ বাড়তি অকটেন সরবরাহ করার চিন্তা আছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর ইচ্ছা আছে, বিশেষ করে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এটি করা হবে।

মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। দেশে সব মিলে অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। ১৫ এপ্রিল বিক্রির পর অকটেন মজুত আছে ৩০ হাজার ৬৬৭ টন, যা বর্তমান সরবরাহ বিবেচনায় ২৬ দিনের মজুত। আজ শুক্রবার ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকেও প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৭০০ টন অকটেন যুক্ত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিপিসি ও তেল বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রলপাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে। কিন্তু গত বছর একই দিনে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। এটি নজরদারি করছে জ্বালানি বিভাগ। এর ব্যত্যয় হলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাই বাড়তি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে কোম্পানিগুলো।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির একাংশের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, ২৫ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে শুধু পেট্রলপাম্পে নয়, এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলারসহ সবাইকেই তেল সরবরাহ করতে হবে। না হলে সব গ্রাহকের চাপ পেট্রলপাম্প সামলাতে পারবে না।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় হয়তো সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। এখন বাড়ালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না–ও আসতে পারে। তবে সরবরাহ বাড়ানো হলে মানুষের আতঙ্ক কমাতে সহায়তা করবে। পেট্রলপাম্প থেকে গাড়িতে তেল সরবরাহের সীমাও বাড়াতে হবে।

অকটেনের উৎস ও ব্যবহার

মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে সাধারণত জ্বালানি তেল হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। বছরে সরবরাহ করা মোট জ্বালানি তেলের ৬ শতাংশ অকটেন। গত অর্থবছর দেশে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। আর বাকি ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এপ্রিলে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন।

দেশের চারটি বেসরকারি শোধনাগার থেকে নিয়মিত অকটেন কেনে বিপিসি। দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া ও আমদানি করা কনডেনসেট শোধন করে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে তারা। এ চার শোধনাগার হলো:

  • চট্টগ্রামের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড
  • পারটেক্স পেট্রো লিমিটেড
  • নরসিংদীর অ্যাকোয়া রিফাইনারি লিমিটেড
  • বাগেরহাটের পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড

এ ছাড়া সরকারি গ্যাস কোম্পানির নিজস্ব ফ্রাকসেনেশন প্ল্যান্ট থেকেও অকটেন পায় বিপিসি।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ভিড় কমাতে কিউআর কোডের মাধ্যমে ঢাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত শুধু ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিবন্ধন করতে পারছে। কোম্পানির নামে থাকা মোটরসাইকেল নিবন্ধন করতে পারছেন না চাকরিজীবীরা। ব্যক্তিগত গাড়িও যুক্ত করা হয়নি। মাঝেমধ্যে কারিগরি সমস্যাও হচ্ছে। তবে বিপিসি বলছে, এটি পরীক্ষামূলক। যেসব আপত্তি আসছে, এগুলো সমাধান করা হচ্ছে। এ মাস শেষে এটি চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর সারা দেশে উন্মুক্ত করা হবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিং স্টেশনের নামে দৈনিক তেল সরবরাহের বরাদ্দপত্র তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। গত বছরের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পাম্পের বর্তমান বিক্রি, মানুষের ভিড় বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন। এর ভিত্তিতে কোনো পাম্পে তেল সরবরাহ বাড়ানোর সুপারিশ করবে তারা।