১২ ঘণ্টা অপেক্ষা ও ছিনতাই: জ্বালানি সংকটে চালকের দুর্ভোগ
জ্বালানি সংকটে চালকের ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা ও ছিনতাই

জ্বালানি সংকটে চালকের ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা ও ছিনতাই

রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকটে চালক বেলাল হোসেনের মতো শত শত মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, এমনকি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনারও শিকার হচ্ছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য অপেক্ষা করেছেন বেলাল হোসেন। মিরপুরের কয়েকটি পেট্রল পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে তিনি মোহাম্মদপুরের আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়ান।

দীর্ঘ সারি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির সারি প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। বেলাল হোসেন বলেন, ‘খাওয়া–ঘুম সব বাদ দিয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেছি। ছিনতাইয়ের শিকার হলাম। এখন তেল পেলাম মাত্র তিন হাজার টাকার। হায়েস গাড়ি হওয়ায় তাও ৩ হাজার টাকার পেয়েছি। ব্যক্তিগত গাড়ি দুই হাজার টাকার পাচ্ছে।’ ভোরের দিকে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ার সময় একদল কিশোর ছিনতাইকারী তাঁর গাড়ির মানিব্যাগ নিয়ে দৌড় দেয়। পাশের চালক মানিব্যাগ উদ্ধার করলেও টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়।

তেলের সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি

দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরবরাহ সীমিত রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও পেট্রল পাম্পগুলো এখনও বাড়তি সরবরাহ পায়নি। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় চন্দ্র দাস জানান, ‘আমরা এখনও বাড়তি সরবরাহ পাইনি। খোঁজ নেওয়া হয়েছে, কখন থেকে বাড়তি সরবরাহ শুরু হবে, সেটাও পরিস্কার না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য চালকদের অবস্থা

সারিতে থাকা অনেক চালক ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন। হাজারিবাগ থেকে আসা ওমর ফারুক, যিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালান, বলেন, ‘যেদিন তেল নিতে আসি, সেদিনের উপার্জন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসে।’ আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে একটি প্ল্যাকার্ড টানানো রয়েছে, যাতে লেখা—‘তেল আসবে সন্ধ্যা ৬টার পরে।’ ক্যাশিয়ার নূর ইসলাম বলেন, মানুষদের প্রশ্নের চাপে কাজ করতে না পেরে তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দেয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহের সংকট দূর হয়নি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।