ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণের দৃঢ়তা দেখালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে সরকার অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকার গঠনের মাত্র ২১তম দিনে বাংলাদেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিবরণ ও মন্ত্রীর বক্তব্য
মঙ্গলবার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর হরিমোহন রায়ের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এমপি নাছির চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমেদ, কামরুজ্জামান কামরুল, এম কয়ছর আহমেদ, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন ও সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সহিদুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজিব সরকার।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রাথমিকভাবে গৃহবধূ ও নারীদের জন্য নির্ধারিত, যার মূল উদ্দেশ্য পারিবারিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, "পরিবারের নারীরা জানেন কোন খরচগুলো বেশি প্রয়োজন এবং তারাই পরিবারের খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করতে সক্ষম। সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
খাল খনন প্রকল্প ও কৃষি উন্নয়ন
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি সরকার খাল খনন কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সিলেট বিভাগে কৃষি উৎপাদন পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব। বেশিরভাগ জমিতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পানি জমে থাকে, যা বাড়তি ফসল উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে।
খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থা করে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই সিলেট বিভাগের প্রতিটি কৃষি জমি থেকে বাড়তি ফসল ফলানো হোক, যাতে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবারগুলো বাড়তি আয় করতে পারে।"
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উপর জোর দেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় বিনিয়োগ স্থবির ছিল, যা কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। সরকার এখন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে।
ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে অল্প সময়ের জন্য দ্রব্যমূল্যে তাৎক্ষণিক বৃদ্ধির আশু সম্ভাবনা নেই।
ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিবিএসের জরিপ তথ্যের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকারভোগী বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব না থাকে।
কার্ড বিতরণের পরিসংখ্যান
এই প্রকল্পের আওতায় কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আকিল শাহ, উত্তর সুরিয়ারপাড় ও রাধানগর গ্রামের মোট ৬৯৭ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরাসরি কয়েকজন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন।
মন্ত্রী শেষে বলেন, বিএনপি সরকারের সকল নির্বাচনি অঙ্গীকার বাংলাদেশের উন্নয়নকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, যাতে দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।



