রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর চরে ছিনতাই হওয়া ১৭৬টি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পদ্মার মধ্য চাকলার চরের রায়টা খেয়াঘাট এলাকা থেকে এসব গরু উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, উপজেলার পদ্মার মধ্য চকরাজাপুর চরের ছয়জন কৃষক—আলতাফ খামরু, কামাল হোসেন খামরু, জামাল উদ্দিন, আসাদুল হক, বাবলু হোসেন ও আনারুল ইসলাম—তাদের ১৭৬টি গরু নিয়ে পলাশিফতেপুর মাঠে চরাতে যান। সেখানে হঠাৎ কাকন বাহিনীর ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র সদস্য এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে, যাতে রাখালরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তারা রাখালদের কাছে এসে গুলি করে মারার হুমকি দেন এবং গরু রেখে চলে যেতে বলেন। ভয়ে রাখালরা গরু ফেলে সেখান থেকে সরে যান।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান
পরে কাকন বাহিনীর সদস্যরা রায়টা খেয়াঘাট এলাকার অদূরে গরুগুলো নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাঘা থানার পুলিশ লালপুর থানার সহায়তায় অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা স্পিড বোটে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ সব গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধার হওয়া গরুর মধ্যে আলতাফ হোসেন খামরুর ৮০টি, কামাল হোসেনের ১৩টি, জামাল হোসেনের ২৭টি, বাবলু হোসেনের ২০টি, আনারুল হোসেনের ৩০টি এবং আসাদুল হকের ৬টি গরু ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
রাখাল বাবলু হোসেন বলেন, সোমবার দুপুরে প্রচণ্ড রোদে গরুগুলো অস্থির হয়ে পড়লে তারা গরুগুলো পদ্মা নদীর পানিতে নামিয়ে দেন। এ সময় স্পিড বোটে করে কাকন বাহিনীর ৬-৭ জন এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং গরু রেখে চলে যেতে বলে। আমরা ভয়ে গরু ফেলে চলে আসি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় গরু উদ্ধার হয়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, ছিনতাই হওয়া গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।



