বাংলাদেশ এখনো কম মজুরির অর্থনীতির ধারণা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ শ্রমিকদের কম উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার ঘাটতি। এই উৎপাদনশীলতা কম হওয়ার কারণ শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান মিলনায়তনে 'শ্রমের পরিবেশ, মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ গতিপথ' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকি ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা
শ্রমিকদের এই পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে, তা–ও আলোচনা সভায় ওঠে এসেছে। বক্তারা বলেন, সরকারের উচিত শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকির মাধ্যমে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা। এ ছাড়া নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর বিচার না পাওয়া রোধে শ্রমিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার, বেসরকারি সংস্থা ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সদস্য অনিক রায়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবির চৌধুরী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম প্রধান সংগঠক (উত্তর) সাদিয়া ফারজানাসহ প্রমুখ।
সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তারের বক্তব্য
সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, টেকসই উন্নয়নে শ্রমিকের ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। যেখানে শ্রম, সেখানেই মানুষ। তাই মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকদের মর্যাদা দিতে হবে। দেশে বিভিন্ন সময় শ্রম আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হলেও এতে শ্রমিকদের অংশগ্রহণে ঘাটতি ছিল। ফলে আইনগুলো প্রকৃত অর্থে শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহর মন্তব্য
দেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করলেও সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে মন্তব্যে করেন প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার শুধু আইন দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক ও নৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার ভাবছে।
তাসলিমা আখতারের বক্তব্য
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে সব খাতে সংস্কারের সুযোগ তৈরি হলেও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাতারাতি বদলানো সম্ভব হয়নি। গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, সুবিধাবাদ ও বিভাজনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা শ্রমব্যবস্থার মধ্যেও রয়ে গেছে।
শফিকুর রহমানের মন্তব্য
এ সময় ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম। ফলে একটি ধরনের বলয় হয়েছে। আবার মজুরি বাড়ালে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কম মজুরির কারণে শ্রমিকের জীবনমান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ছে না। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়ার একটি বড় পথ হলো শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।



