ইরান সম্পর্কিত সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিলে দেশের অর্থনীতিতে সামান্য ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। নির্মাণ ও সেবা খাতে সংকোচন অব্যাহত থাকলেও কৃষি এবং উৎপাদন খাতের শক্তিশালী সম্প্রসারণ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পিএমআই সূচকের অবস্থা
ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি পরিমাপকারী পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ছয় পয়েন্টে, যা আগের মাস মার্চের তুলনায় এক দশমিক এক পয়েন্ট বেশি। মার্চে এই সূচক ছিল ৫৩ দশমিক পাঁচ পয়েন্ট। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে পিএমআই ছিল যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৯ এবং ৫৫ দশমিক সাত পয়েন্ট।
দেশের বেসরকারি খাতের ৪০০টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে সূচকটি প্রণয়ন করা হয়। এতে নতুন ক্রয়াদেশ, কাঁচামাল সংগ্রহ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকে। পিএমআই সূচকে ৫০-এর ওপরে মান অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং ৫০ এর নিচে মান সংকোচন নির্দেশ করে।
ব্যবসায়িক সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) এবং গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সূচক প্রকাশ করে থাকে।
খাতভিত্তিক চিত্র
এপ্রিলে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—এই চারটি প্রধান খাতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
উৎপাদন খাত
উৎপাদন খাত টানা ১৮ মাস সম্প্রসারণের পর মার্চে সংকোচনে প্রবেশ করলেও এপ্রিলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৯ পয়েন্টে, যা আগের মাসে ছিল ৪৯ দশমিক ৭ পয়েন্ট। নতুন ক্রয়াদেশ, রফতানি আদেশ ও কর্মসংস্থানে পুনরায় গতি ফেরায় খাতটি সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে।
কৃষি খাত
কৃষি ব্যবসা খাত টানা অষ্টম মাস সম্প্রসারণ ধারা বজায় রেখেছে এবং এপ্রিলে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে সূচক দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক সাত পয়েন্টে, যা মার্চে ছিল ৫১ দশমিক ছয় পয়েন্ট। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, উপকরণ ব্যয় ও নতুন ক্রয়াদেশে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
নির্মাণ খাত
অন্যদিকে, নির্মাণ খাত টানা সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। এপ্রিলে এ খাতের সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ছয় পয়েন্টে, যা মার্চে ছিল ৪৯ দশমিক দুই পয়েন্ট। সেবা খাতেও গতি কমেছে। এপ্রিলে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক আট পয়েন্টে, যা আগের মাসে ছিল ৫৬ দশমিক চার পয়েন্ট।
বিশেষজ্ঞের মতামত
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এক বিবৃতিতে বলেন, এপ্রিলে প্রকাশিত পিএমআই সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশের অর্থনীতি এখনও সম্প্রসারণমুখী ধারায় রয়েছে। উৎপাদন, কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও নির্মাণ খাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক আস্থা এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, নির্মাণ খাতের দুর্বলতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি কিছুটা সীমিত করছে।



