বাটার পুনর্জাগরণে নতুন কৌশল: সিইও পানোস মাইটারোসের সাক্ষাৎকার
বাটার পুনর্জাগরণে নতুন কৌশল: সিইও পানোস মাইটারোসের সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশে বাটার বাজার নিয়ে প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে বাটা বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পানোস মাইটারোস জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। তিনি বলেন, সবকিছু শুরু হয় ভোক্তা থেকে। বাজারে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি ভোক্তা কারা, আমরা কাদের উদ্দেশ্যে কাজ করছি এবং তারা কী চায়।

দুই বাস্তবতা

মাইটারোসের মতে, বাংলাদেশের বাটার বাজারে দুটি আলাদা বাস্তবতা রয়েছে। একটি হলো বাটার জগৎ, যা ১৯৬২ সালে শুরু হয়। অন্যটি বর্তমান সময়ের বাস্তবতা, যেখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বাটা সময়ের গতির সঙ্গে সমানভাবে এগোতে পারেনি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।

ব্র্যান্ড পুনরুজ্জীবনের কৌশল

বাটার ঐতিহ্য ও লিগ্যাসি ধরে রেখে আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে। মাইটারোস বলেন, অনেক ব্র্যান্ড অতীতে আটকে থাকে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে ওঠে। বাটা ঐতিহ্য ও প্রাসঙ্গিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে এগোচ্ছে। তার লক্ষ্য, বাটাকে আবার ‘রিইগনাইট’ বা পুনরুজ্জীবিত করা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নকশা, মান ও মূল্যের ভারসাম্য

মাইটারোসের মতে, বাটা সবার জন্য জুতা তৈরি করতে চায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অর্থনৈতিক স্তরের ভোক্তার চাহিদা পূরণ করতে হবে। মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়। দাম যাই হোক, মানের গণতন্ত্রীকরণ করতে হবে। নকশার ক্ষেত্রে বাজার অনুসরণ না করে নিজেদের ধারণা পরিষ্কার রাখতে হবে।

ভালো পণ্যের সংজ্ঞা

বর্তমানে ভালো পণ্য হতে হলে শুধু ভালোভাবে তৈরি হলেই হবে না, আরামদায়ক ও সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হবে। মাইটারোস বলেন, মানুষ এখন আরও আরাম চায়, তাই স্নিকার্সের ব্যবহার বেড়েছে। বাটা পণ্যে এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে চায়।

প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও চ্যালেঞ্জ

গত কয়েক বছরে বাটা খুব বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। প্রধান কারণ ছিল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। মাইটারোসের ‘রিইগনাইট’ কৌশল একটি প্রবৃদ্ধির কৌশল। বাজারের বড় অংশীদার হওয়া বাটার জন্য জরুরি, নইলে টিকে থাকা কঠিন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের গুরুত্ব

বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের বাজার, তাই এটি উপেক্ষা করা যায় না। বাটা ১৯৬২ সাল থেকে এখানে আছে এবং থাকতেই এসেছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্কৃতি, বিশেষ করে উৎসবভিত্তিক সংস্কৃতির সঙ্গে বাটা যুক্ত। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে জুতা রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০৩০ সালের লক্ষ্য

মাইটারোস ২০৩০ সালের মধ্যে বাটাকে আরও বড় হতে দেখতে চান। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫০ শতাংশ। বাটা যেন ভোক্তাদের সংস্কৃতি ও ট্রেন্ডের সঙ্গে আরও প্রাসঙ্গিক হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাটা সবার জন্য সর্বত্র সহজলভ্য হোক।

মানুষ বাটাকে কীভাবে মনে রাখবে

মাইটারোসের সহজ বার্তা: ‘অসাধারণভাবে ভালো জুতা’। এভাবেই মানুষ বাটাকে মনে রাখুক, এটাই তার প্রত্যাশা।