দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের ছয়দিন পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে। তবে ইউনিটটি পুরোনো হওয়ায় টানা কতদিন নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা যাবে, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।
উৎপাদন পুনরায় শুরু
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিট। কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপাদন শুরুর ফলে ওই ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে ৭০০ মেট্রিক টন।
বন্ধের কারণ
গত ১ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চালু থাকা প্রথম ইউনিটটি পরদিন (২ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বয়লারের টিউব ফেটে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে মেরামতের জন্য টানা ছয়দিন বন্ধ ছিল এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম।
কেন্দ্রের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পৃথক তিনটি ইউনিটের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কখনোই পুরোমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রথম ইউনিট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্মাণকাল থেকেই ইউনিটের সমস্যা রয়েছে। এক নম্বর ইউনিটটি পুরনো ইউনিট, এটি চালু হয়, আবার বন্ধ হয়ে যায়। আবার কখন বন্ধ হয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।
অন্যান্য ইউনিটের পরিকল্পনা
তিন নম্বর ইউনিট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিটটি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দুই নম্বর ইউনিটটি চালুর বিষয়েও চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এজন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।



