ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি, আশঙ্কা কাটেনি কৃষকদের
ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি

এপ্রিল শেষের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার তিনটি স্থানে পাহাড়ি ঢলে পাকা বোরো ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে যৎসামান্য ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে পাহাড়ি ঢল না নামায় ফসল বেঁচে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা।

ফসল কাটার অগ্রগতি

জেলার ১৫টি উপজেলায় স্থানভেদে ২০ থেকে ২৬ শতাংশ ফসল কাটা শেষ হয়েছে, যা মোট আবাদ হওয়া বোরো ধানের এক-তৃতীয়াংশ। কৃষকরা জানান, এপ্রিলের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামে এত ভারী বর্ষণ গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। মৌসুমি বায়ু আসার আগে নদীসমূহে বায়ুচাপের আধিক্যসহ কালবৈশাখীর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে কোথাও কোথাও প্রবল পাহাড়ি ঢলের উপক্রমও হয়েছিল।

কৃষকদের উদ্বেগ ও স্বস্তি

চট্টগ্রামের কৃষকরা বোরো ফসল কাটতে শুরু করেন ২৩-২৪ এপ্রিল থেকে। বৃষ্টি ক্রমশ কমে আসায় কৃষকরা স্বস্তি নিয়ে ফসল কাটায় আবারও নেমে আসেন। ফসল কাটা চলবে মধ্য মে বা মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে ঝড়-বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় কৃষকদের মন থেকে এখনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দূর হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ব্যাপক হারে ফসল নষ্ট হওয়ার কোনো সংবাদ আসেনি। ফলে এ বছর বোরো ধান উৎপাদনে অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা বহাল আছে।

বাঁশখালী উপজেলা

চট্টগ্রামে বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় উপজেলা বাঁশখালীর কৃষি কর্মকর্তা শ্যামলচন্দ্র সরকার জানান, গত ১০ দিন আগে থেকে সেখানে পাকা বোরো ফসল কাটা শুরু হয়েছে। মাঝখানে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়-বজ্রপাত হলেও কোথাও ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ, কিন্তু চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১০ হেক্টর। কত চাল পাওয়া যাবে, তা পুরো মাঠের ফসল কৃষকদের ঘরে ওঠে মাড়াই শেষ হওয়ার পর বলা যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফটিকছড়ি উপজেলা

চট্টগ্রামে বোরো ধান উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় উপজেলাগুলোর একটি ফটিকছড়ি। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহ জানান, এপ্রিল শেষের ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের যৎসামান্য ক্ষতি হয়েছে। ফসল কাটা শেষ হতে এখনো ১০-১৫ দিন বাকি। তাই এখনই সব কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এ পর্যন্ত পাকা ধানের ২৩ শতাংশ কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এ উপজেলায় বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমি, কিন্তু তা বেড়ে আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গুমাইবিলসহ তিনটি স্থানে এপ্রিলের ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। রাঙ্গুনিয়ার কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, ভারী বর্ষণে গুমাই বিলের ব্রহ্মোত্তর এলাকা, পদুয়া ইউনিয়ন এবং কোদালা ইউনিয়নের বোরো ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শস্যভাণ্ডার গুমাইবিলসহ সর্বত্র এ পর্যন্ত ২৬ শতাংশ পাকা বোরো ফসল কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠে ফসল কাটা আরো ১২-১৩ দিন চলবে। আনুষ্ঠানিক ধানকাটা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। রাঙ্গুনিয়ায় এবছর ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।